মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল তাহসিফের

রাজধানীর উত্তরখান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ বুধবার (২৮ অক্টোবর) উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তার বাবা কে এম জসিম উদ্দিন করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় মামলা করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাবার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। শনিবার সকালে মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ সৌরি। এরপর রাত গভীর হলেও তিনি বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার মা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান।
তথ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে তার মায়ের ফোনে তাহসিফের মোবাইল নম্বর থেকে একটি ভয়েস মেসেজ আসে। সেখানে তিনি ‘রওনা দিচ্ছি, আসিতেছি’ বলে জানান। এরপর পরিবারের কারও সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি তার। বাড়িও ফেরেননি তিনি।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে তাহসিফের বাবা থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি ছেলের বাসা থেকে বের হওয়া, পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কে এম জসিম উদ্দিন করিমের দাবি, তার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা- তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পাশাপাশি যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসার এসআই মোস্তাফিজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উত্তরখান থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।


