Advertisement

৩১ কোম্পানির দখলে ওষুধের ৯৮ ভাগ বাজার, অস্তিত্ব সংকটে ছোট প্রতিষ্ঠান

• কাগজে ৩২৪ কোম্পানি, বাস্তবে অস্তিত্ব নেই ৬৬টির

• একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে বড় গ্রুপের

• ছোট প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনার দাবি

৩১ কোম্পানির দখলে ওষুধের ৯৮ ভাগ বাজার, অস্তিত্ব সংকটে ছোট প্রতিষ্ঠান
ছবি : সংগৃহীত

দেশে লাইসেন্সধারী ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩২৪টি। তবে এ খাতের ৯৮ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষস্থানীয় ৩১টি কোম্পানি। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো।

চলতি বছর হালনাগাদ করা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ওষুধের বাজার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০ হাজার কোটি টাকার। দেশীয় চাহিদার ৯৭ শতাংশ মিটিয়ে ১৫৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। তবে এই বিশাল বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে ৩১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বড় শেয়ার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের। বাজারের প্রায় ১৭ শতাংশই তাদের দখলে, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

ওষুধ খাতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজার ইনসেপ্টার। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাজার নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সাড়ে ১২ শতাংশ।

বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে আলোচিত সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকোর ওষুধের বাজারে শেয়ার ১০ শতাংশের কাছাকাছি, পরিমাণে যা ৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। এরপরই প্রায় ৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে রয়েছে হেলথকেয়ার ফার্মা, প্রায় ৬ শতাংশ শেয়ার রেনাটার এবং ৫ শতাংশের কাছাকাছি শেয়ার এস্কাইফ ও অ্যারিস্টোফার্মার।

শীর্ষ ৩১ কোম্পানির তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্কয়ার, ইনসেপ্টা, বেক্সিমকো, হেলথকেয়ার, রেনাটা, এস্কাইফ, অ্যারিস্টোফার্মা, অপসোনিন, পপুলার, রেডিয়েন্ট, একমি, এসিআই, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিমেড অ্যান্ড ইউনিহেলথ, বিকন, জিসকা, নভো নরডিকস, নিপরো জেএমআই, ইবনে সিনা, নোভিস্তা, সান ফার্মা, নাভানা, সাইনোভিয়া, নেভিয়ান লাইফসায়েন্স, রোশ, ওরিয়ন ফার্মা, ইলি লিলি, সার্ভিয়ার, জেনারেল, এভারেস্ট ফার্মা ও ল্যাবএইড ফার্মা।

এর বাইরে কোনোমতে টিকে আছে ওএসএল ফার্মা, ডেল্টা, বায়োফার্মা, জেনফার বাংলা লিমিটেড, প্যাসিফিক, ফার্মা এশিয়া, মুন্দিফার্মা, ডিবিএল ফার্মা, জেসন, ইউনিডো, ওরিয়ন ইনফিউশন, অ্যাপেক্স, ডুপার, গ্লোব, টিম ফার্মা, ওয়ান ফার্মা, র‌্যাংগস এবং নাফকো ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ওএসএলের শেয়ার শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ, বাজারমূল্য যার ৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে গ্লোব, টিম ফার্মা, ওয়ান ফার্মা, র‌্যাংগস এবং নাফকো ফার্মার।

কাগজে আছে, বাজারে নেই ৬৬ কোম্পানি

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৩২৪টি। তবে মাঠপর্যায়ে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাজারে এসব কোম্পানির কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।

এসব অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ও লাইসেন্স ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল ও ভেজাল ওষুধ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিজিডিএর মহাপরিচালক মোহা. আলমগীর হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নিবন্ধিত সক্রিয় কোম্পানি ২৫৮টি (অস্তিত্বহীন ৬৬টি বাদ দিয়ে) হলেও বাস্তবে উৎপাদনে আছে ১৫০টির মতো। বাজারে এমন ২০টির মতো কোম্পানি রয়েছে, যাদের নিজস্ব কোনো উৎপাদন নেই। তবে তাদের কারখানা ও জনবল সচল থাকায় বড় কোম্পানিগুলোর নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ তারা চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করে দিচ্ছে।’

উৎপাদনে না থেকেও সচল কারখানা ভাড়া দেওয়া এই ২০টি প্রতিষ্ঠান মূলত বড় ব্র্যান্ডের চুক্তিভিত্তিক ওষুধ তৈরির প্রধান ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। ভেজাল ও নকল ওষুধের অভিযোগের সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন ডিজিডিএ মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাঝেমধ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ তৈরির ঘটনা ঘটে। তবে এসব ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় না। নামসর্বস্ব কিংবা একেবারে নিচের সারির কিছু কোম্পানি এমন করতে পারে। বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। কীভাবে এটা দূর করা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

মান নিয়ে প্রশ্ন

অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠান বড় ব্র্যান্ডের হয়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ওষুধ তৈরি বা কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং করছে। ভাড়ায় চলা এসব কারখানায় উৎপাদিত ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাব্বির হায়দার বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বড় কোম্পানিগুলো ছোটদের কারখানা নির্বাচন করার আগে সেখানকার পরিবেশ ও জনবল যাচাই করে রিপোর্ট দেয়। কিন্তু এখানে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটারও ঝুঁকি থাকে। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তার পুরো দায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মূল কোম্পানিকে নিতে হবে। কারণ, এতে তাদের ব্র্যান্ডের সুনামও ঝুঁকিতে পড়বে।’

সংকটে নামি প্রতিষ্ঠানও

একসময়ের নামি ও বাজারে দাপট থাকা কিছু বড় প্রতিষ্ঠানও এখন তীব্র অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের বাজার শেয়ার বর্তমানে নেমে এসেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি এখন ঋণাত্মক, মাইনাস ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সংকটের মুখে পড়েছে নিপ্রো জেএমআই, নেভিয়ান লাইফসায়েন্স, ওরিয়ন, জেনারেল ফার্মা, ল্যাবএইড ফার্মা ও ডেল্টা ফার্মার মতো সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোও।

ডিজিডিএর সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেজর জেনারেল (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গত দুই বছরে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক রকমের বাড়লেও ওষুধের মূল্য সমন্বয় করা যায়নি। বড় কোম্পানিগুলো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারলেও ছোটরা পারছে না। অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করে দিয়েছে।’

সংকট মোকাবিলায় একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বাপি ও ডিজিডিএ যৌথভাবে প্রতিটি কারখানার মান যাচাই করে একটি গ্রেডিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করছে। যারা জিএমপি বা গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. হালিমুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যাদের অবস্থা নিচের দিকে, তাদের সরকার একটি সময় বেঁধে দিয়েছিল, যা ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। কন্টাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ওষুধের সঠিক মান বজায় থাকছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।’

প্রণোদনার দাবি

কাঁচামালের বাড়তি দাম ও বড় বিনিয়োগের সক্ষমতা না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাব্বির হায়দার বলেন, এই সংকটের মুখে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে সরকারকে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আকতার হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় কোম্পানিগুলো এমন পর্যায়ে আসছে যে হঠাৎ দাম বাড়িয়ে মনোপলি করা সম্ভব না। কারণ অন্য একজন মার্কেট ধরে ফেলবে। ছোটদের জন্য পরামর্শ, ওষুধ বানানোর জন্য ন্যূনতম যেসব ফ্যাসিলিটি দরকার সেগুলো নিশ্চিত করে তারপরে এগিয়ে যাক। তাতে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’

একাধিক আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের বিপুল বিনিয়োগের কারণে ওষুধ খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি কম বলেও মনে করেন তিনি। আকতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগ সব সময় গণমুখী থাকে। যদি একটা বা দুইটা কোম্পানি বড় হয়ে আসত তবে তাদের মনোপলি করার সুযোগ থাকত। কিন্তু ওষুধ খাতে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তাই এখানে মনোপলির সুযোগ কম। যখন পাঁচ-ছয়টা বড় প্রতিষ্ঠান থাকবে তখন তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতামূলক দাম থাকবে। কেউ ইচ্ছা করলেই দাম বাড়িয়ে মার্কেট দখল করতে পারবে না।’

ছোট প্রতিষ্ঠানের সংকট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘কোনো কোম্পানি যদি সব কাগজপত্র ঠিক রেখে ওষুধ তৈরি করতে চায়, তবে ডিজিডিএ তাদের বাধা দিতে পারে না। ডিজিডিএর কাজ হলো তাদের গুণগত মান এবং সক্ষমতা যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া। তবে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সব নিয়ম ঠিকঠাক মানা হয়েছে কি না। এ ছাড়া নতুন কোম্পানির প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও প্রশ্ন থাকে—তারা কি নতুন কিছু যোগ করছে, নাকি শুধু প্রচলিত ওষুধই (যেমন প্যারাসিটামল) তৈরি করছে? তারা কি দাম কমাবে নাকি গুণমান বাড়াবে—এসব যাচাই করেই ডিজিডিএর অনুমোদন দেওয়া উচিত।’

ছোট প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে না পারার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ছোট কোম্পানিগুলোর টিকে না থাকার প্রধান কারণ হলো তাদের উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের সক্ষমতা কম। তারা মূলত সাধারণ ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলো তৈরি করে। কিন্তু গত ১০ থেকে ১২ বছরে, বিশেষ করে ২০১৭ সালের পর থেকে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণ বা বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে এসব ওষুধ উৎপাদন করে তারা মুনাফা করতে পারছে না। অন্যদিকে বড় কোম্পানিগুলো উচ্চমূল্যের ওষুধ তৈরি করে এবং ব্যাকওয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নতুন নতুন ওষুধ বাজারে এনে টিকে আছে। বড় কোম্পানিগুলো তাদের উচ্চমূল্যের ওষুধের মুনাফা দিয়ে সাধারণ ওষুধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারলেও ছোট কোম্পানিগুলোর সেই সুযোগ নেই। কারণ তারা উচ্চমূল্যের ওষুধ তৈরি করতে পারে না। এটি বাজারের জন্য ক্ষতিকর দিক। কারণ একটি সুস্থ বাজার ব্যবস্থায় বড় কোম্পানির পাশাপাশি মাঝারি কোম্পানি থাকা জরুরি। প্রাইস রিভিউ না হওয়া এই সংকটের একটি বড় কারণ।’

সমস্যা উত্তরণের উপায় সম্পর্কে এই অধ্যাপক বলেন, ‘সরকার চাইলে ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোকে বাঁচাতে পারে। সরকার ইডিসিএলের (এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড) মাধ্যমে ওষুধ কেনে। কিন্তু ইডিসিএলের সব ওষুধ তৈরির সক্ষমতা নেই, তাই তারা অনেক সময় বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ওষুধ কিনে সরবরাহ করে। এ ক্ষেত্রে সরকার একটি নীতিমালা করতে পারে, যেখানে ইডিসিএলের সক্ষমতার বাইরের ওষুধগুলো মানসম্মত ছোট বা মাঝারি কোম্পানির কাছ থেকে কেনা হবে। এর মাধ্যমে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িকভাবে টিকে থাকার সুযোগ পাবে।’