বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে দুর্নীতি, ইনুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

বাংলাদেশ বেতারের ভবনে আইন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করে ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকারও বেশি আত্মসাৎ ও সরকারের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
সাইদুর রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের আবেদনের কথা বলে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রকল্পের অনাবশ্যক অংশ হিসেবে ম্যুরাল নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করে এই অর্থ অপচয় ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্রে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য বা ম্যুরাল স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের সুপারিশ পাঠায়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে এক সভায় বিষয়টি স্টিয়ারিং কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির তৃতীয় সভায় প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অন্য একটি সভায় ‘বাংলাদেশ বেতারের শাহবাগ কমপ্লেক্স আগারগাঁও ঢাকায় স্থানান্তর নির্মাণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় এই ম্যুরাল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্রোঞ্জ ম্যুরালের ডিজাইন অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১২ জুনের মধ্যে ৯টি বিলের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উত্তোলন ও গ্রহণ করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারি খাতের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতির নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ম্যুরালটি মূল প্রকল্পের অনাবশ্যক বা অপরিহার্য অংশ ছিল না। সত্ত্বেও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল অন্তর্ভুক্ত করেন এবং সরকারের বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন।
এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশন কর্তৃক চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
