logo
Advertisement

বাংলাদেশ-চিলি সম্পর্ক জোরদারে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-চিলি সম্পর্ক জোরদারে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
চিলির প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন চিলিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনার সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে চুক্তিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি চুক্তি সই হতে পারে।

Advertisement

চিলিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (ব্রাজিলে আবাসিক) ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম, এনডিসি, পিএইচডি স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চিলির প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন।

পরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা উপস্থিত ছিলেন।

পরিচয়পত্র গ্রহণের পর চিলির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সফরে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ কয়েকটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শক সভা আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এ সভা গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

এর আগে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও চিলির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। উপযুক্ত বাণিজ্য কাঠামো এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে এ বাণিজ্য কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ এবং চিলির কপার ও লিথিয়ামসহ পরস্পরের পরিপূরক পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক চেম্বারগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী বছরের জানুয়ারিতে সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় একটি চিলীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

এদিকে চিলির সিনেটর রাহো এডওয়ার্ডস সিলভার সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে সিনেটর ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে (আইপিইউ) তাঁর প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।