logo

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে উদ্ধার আরও ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে উদ্ধার আরও ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন
ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫৪ বাংলাদেশি শনিবার দেশে ফিরেছেন। এর আগে শুক্রবার ফিরেছিলেন আরও ৩৭ জন। সব মিলিয়ে দুই দিনে ৯১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে ৫৪ ভুক্তভোগী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ফেরত আসা ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেয় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয়।

তাদের অভিযোগ, এসব কম্পাউন্ডে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার প্রতারণার কাজে অংশ নিতে চাপ দেওয়া হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

ফেরত আসা কয়েকজন জানান, চাকরির নামে কম্বোডিয়ায় নেওয়ার পর তাদের পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়। পরে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হতো।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরপর দুই দিনে ৯১ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এ ধরনের প্রতারণা ও মানবপাচারের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার কর্মীসহ বিভিন্ন পদের আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে অনলাইনে ফাঁদ পাতা হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।

এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একই ধরনের প্রতারণার শিকার আরও ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

শরিফুল হাসান বলেন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশগামীদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।