অপ্রতিম হত্যার ৪ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের হাতে আসা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর এ আবেদন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর)। দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে গ্রেপ্তার আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামের এক নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একই দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে বনের ভেতর অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসামিরা। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে এবং তুহিনের বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি জব্দ করে। পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ নির্জন স্থানটি থেকে উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত ও পুলিশি তথ্যে জানা যায়, আসামিরা অপ্রতিমের সমবয়সি বা একই শ্রেণির সহপাঠী না হলেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং নিয়মিত গল্প-আড্ডা হতো।
গ্রেপ্তারকৃত চার আসামির পরিচয়— সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯); কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির সাবেক শিক্ষার্থী (২০২৫ সালে ফেল করে ড্রপআউট)। মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫); ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মো. কামরুল হাসান (১৯); ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিয়াম (১৫); কাপ্তান বাজার এলাকার খাঁন বাহাদুর অবদেল লতিফ মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, এ ঘটনার পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা গভীর গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করে বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আবেদন জানানো হবে।
