একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনমতো টাকা তুলতে পারবেন

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল টাকা তুলতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে। ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।
বৈঠকে গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফায় কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। এ কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, তাদের মুনাফায় কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ আরোপ করা হবে না।
এদিকে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলন করতে পারবেন। এ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি একীভূত পাঁচ ব্যাংকের হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসককে চিঠি দিয়ে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর মুনাফা পাবেন না।
আন্তর্জাতিক রীতি মেনে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে আমানতকারীদের আমানতের একটি অংশ কেটে রাখা বা হেয়ারকাট কার্যকর করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি দেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের জন্য ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু থাকলেও শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন আমানতকারীরা। তাদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত আজ এ নিয়ম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



