বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৫ শতাংশ কমলো

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক রোববারের মধ্যেই সই হতে পারে বলে শুক্রবার রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এখনো কোনো সমঝোতা স্মারক সই হয়নি এবং আলোচনার বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিমান হামলা স্থগিত করেন। একই সময়ে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চূড়ান্ত আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পেলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে।
বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ খুলবে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, সমঝোতা হলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কারণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক তেলের মজুত এখনো তুলনামূলক কম।
এদিকে ডাচ ব্যাংক আইএনজির বিশ্লেষকেরা বলেছেন, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ যদি তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে মজুত কমে যাওয়া ও মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আবারও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৭ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে নামিয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি ও চাহিদা কমার সম্ভাবনাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। সংস্থাটি এখন ২০২৬ সালে দৈনিক ৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। তবে ২০২৭ সালে চাহিদা আবারও জোরালোভাবে বাড়বে বলে তাদের ধারণা।
