logo

ফের সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

ফের সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব
বোতলজাত সয়াবিন তেল। ছবি: গেটি ইমেজস

আগামী রমজানকে সামনে রেখে দেশে আবারও ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক দোকানে ২ ও ৫ লিটারের বোতলজাত তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে লোকসানের কথা জানিয়ে সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় রিফাইনাররা।

তাদের দাবি, দাম সমন্বয় না হলে তেল আমদানিতে নিরুৎসাহ তৈরি হতে পারে। এতে রমজানে চাহিদা বাড়ার সময় সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

গত ২ সেপ্টেম্বর সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর মাত্র ২০ দিনের মাথায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর নতুন দর সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩২৫ ডলারে উঠেছে।

এ কারণে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে রিফাইনারদের প্রায় ১৭ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের দাম সমন্বয়ের আশ্বাস পাওয়ায় লোকসান সত্ত্বেও তারা ঋণপত্র খোলা ও সরবরাহ চালু রেখেছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, প্রস্তাব যাচাই-বাছাই না করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হবে না। গত শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ সংকটের পর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। জুলাইয়েও আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব দেখিয়ে বাজারে সরবরাহে টান দেখা দেয়।

সবশেষ ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। এর আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ২২৩ ডলার।

দেশে বছরে ২২ লাখ টনের বেশি ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে বছরে ২২ থেকে ২৬ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি করা হয়। দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর।

বাংলাদেশের সয়াবিন তেলের প্রধান সরবরাহকারী আর্জেন্টিনা। এরপর রয়েছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সয়াবিন ও সয়াবিন তেল আমদানি করে বাংলাদেশ।