logo

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড, কাটল দুই বছরের স্থবিরতা

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড, কাটল দুই বছরের স্থবিরতা
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। গত আগস্টে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, গত দুই বছরের স্থবিরতার পর একক মাসে এটাই সর্বোচ্চ রপ্তানি।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে মাসিক গড় রপ্তানিও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই গড় ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে।

মোট পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অংশও বেড়েছে। আগের অর্থবছরের ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৬১২ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ১ হাজার ৪৪৭ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

দুই মাসের এই রপ্তানি গত পুরো অর্থবছরের রপ্তানির প্রায় পঞ্চমাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানি হয়েছিল ৭ হাজার ৭৪৪ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারের। জুলাই-আগস্টের রপ্তানি তার ২০ দশমিক ৮ শতাংশ।

বর্তমান ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার পুরো বছর বজায় থাকলে বড় সুফল মিলতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি তখন পৌঁছাতে পারে আনুমানিক ৮ হাজার ৬২৯ মিলিয়ন ডলারে। আগের অর্থবছরে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭৪৪ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার।

চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মাসিক গড় রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের মাসিক গড় ছিল ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বর্তমান গড় আগের চেয়ে এগিয়ে। তবে এই এগিয়ে থাকার পেছনে প্রায় পুরো অবদান আগস্টের। ওই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগে জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানির অপ্রচলিত বাজার বলতে বোঝানো হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য ছাড়া বিশ্বের অন্য সব গন্তব্যকে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের এমন বেশ কিছু বাজারে রপ্তানি বাড়ছে। এর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা উল্লেখযোগ্য।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি ভালো ছিল। গত দুই বছরে এই বাজারে রপ্তানি কমে যায়। তবে আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি আবারও বেড়েছে।’

প্রচলিত বাজারে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় খাতের নেতারা বিভিন্ন কৌশল নিয়ে অপ্রচলিত বাজারে ভালো করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান মহিউদ্দিন রুবেল। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সেই কৌশলগুলো এখন কাজে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি রপ্তানির বৈচিত্র্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও এই প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।’

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘এই প্রবৃদ্ধি অর্জন অবশ্যই ভালো খবর। তবে আমাদের আগামী মাসগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদি আমরা দেখতে পাই এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে তখনই আমরা বলতে পারব যে, এটি শেষ পর্যন্ত টেকসই হয়েছে।’