logo

সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম বাড়ল, কাঁচা মরিচের বড় দরপতন

সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম বাড়ল, কাঁচা মরিচের বড় দরপতন
সবজির পসরা সাজিয়ে বসেছেন এক বিক্রেতা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে মিশ্র মূল্যপ্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। কিছু পণ্যের দাম সামান্য বাড়লেও বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে। বাজারদরের এই তারতম্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশি আদার দাম, অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২৫ থেকে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আদার দাম প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে।

এর বিপরীতে কাঁচা মরিচের দামে বড় পতন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৮০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে।

এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ ও বেগুনের দামেও স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিতে ৭০ থেকে ১২০ টাকার পরিবর্তে কমে ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাল ও সয়াবিন তেলের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং সরু চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৯ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে চড়া ভাব অব্যাহত

সবজি ও কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কমলেও মাছের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। মহাখালী কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চাষের কই ২২০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সিলভার কার্প ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, মিরর কার্প ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের পাবদা মাছ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রুই ও কাতলা মাছের দামও বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। বড় আকারের কাতলার দাম কোথাও কোথাও ৬৫০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। চিংড়ির বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে; চাষের চিংড়ি প্রতি কেজি প্রায় ৯০০ টাকায় এবং বড় আকারের গলদা চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে ইলিশের দাম। বাজারে ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং বড় আকারের ইলিশ প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা চাকরিজীবী ইমাম হাসান বলেন, সবজি ও কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কমলেও মাছের বাজারে এখনো চড়া দাম বিরাজ করছে। মাছ কিনতে গিয়ে আমাদের বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, কিছু পণ্যের দাম কমলেও বেশ কিছুদিন ধরে অনেক পণ্যের দাম প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।

সার্বিকভাবে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়ছে না। কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের দামে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। তবে মাছের চড়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করে চলেছে।