logo
নিরীক্ষা প্রতিবেদন

অরবিড এ্যাপারেলসের ২৬ কোটি টাকার ঋণের ফাঁদে জনতা ব্যাংক

• নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এটিকে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

• পরিদর্শন প্রতিবেদনে কারখানায় ৫০২ সেট মেশিনের কথা বলা হয়, অডিটে মিলেছে ২০৪টি

• ৮৮টি ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির দায় শোধে ডিমান্ড লোন, ৬৭টি এখনও অনাদায়ী

অরবিড এ্যাপারেলসের ২৬ কোটি টাকার ঋণের ফাঁদে জনতা ব্যাংক
জনতা ব্যাংক

মেসার্স অরবিড এ্যাপারেলসকে দেওয়া ঋণের টাকা আদায় করতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। পোশাক রপ্তানিকারক এই প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকটির অনাদায়ী স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ১৪৩ টাকা। একে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মহা হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর।

ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা। এই শাখার ২০২৩ ও ২০২৪ পঞ্জিকা বছরের আর্থিক কার্যক্রমের ওপর বিধি পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) নিরীক্ষা চালায় অডিট দল। সেই নিরীক্ষায় অনিয়মের এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহজামানত ঘাটতি রেখে দফায় দফায় ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। সহজামানত হলো ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা জমি বা সম্পদ। কারখানার রপ্তানি সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই না করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

অনাদায়ী স্থিতির মধ্যে ২২ কোটি ৮২ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৫ টাকা ডিমান্ড লোনের। বাকি ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৫২৮ টাকা করোনার প্রণোদনা ঋণের। এই হিসাব ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত।

এই ঋণ দিতে পাঁচটি বিধি ও নির্দেশনা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেছে নিরীক্ষা দল। জড়িতদের দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতির টাকা আদায়েরও সুপারিশ করা হয়েছে।

তিন দফায় বাড়ানো হয় ঋণসীমা

নিরীক্ষা দল অরবিডের ঋণনথি, ঋণ হিসাব বিবরণী ও রপ্তানি ঋণপত্রের নথি পর্যালোচনা করে। ঋণনথিতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে রপ্তানি ঋণপত্রের বিপরীতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় ২০০৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি হলো রপ্তানির জন্য কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র। রপ্তানির আয় থেকে এর দায় শোধ করার কথা।

পোশাক রপ্তানির জন্য ৯ লাখ ডলারের এলসি ঋণসীমা মঞ্জুর করা হয় ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর। তখনকার সমমূল্য ছিল ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। এই ঋণের বিপরীতে সহজামানত হিসেবে নেওয়া হয় সাভার উপজেলার ধনঞ্জয়পুর মৌজার ৩৩ শতাংশ জমি।

২০০৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বন্ধক রাখার সময় জমির বাজারমূল্য ধরা হয় ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জমিটি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। তখন বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এরপর তিন দফায় এলসি ঋণসীমা বাড়ানো হয়। প্রথমে ২০১১ সালের ২০ মে সীমা দাঁড়ায় ১৪ লাখ ডলার। ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই তা বেড়ে হয় ১৮ লাখ ডলার। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৯ আগস্ট সীমা দাঁড়ায় ২২ লাখ ডলারে। তবে একবারও সহজামানত বাড়ানো হয়নি।

শেষ দফার ২২ লাখ ডলারের তখনকার সমমূল্য ছিল ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অথচ সহজামানত ছিল মাত্র ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতা ব্যাংকের ঋণ মঞ্জুরি ক্ষমতা বিধি (নবম সংস্করণ, নভেম্বর ২০২১) অনুযায়ী প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে ন্যূনতম দেড় গুণ সহজামানত নিতে হয়। তবে সাধারণ রপ্তানিকারকদের রপ্তানি ঋণের বিপরীতে দেড় গুণের বদলে সমপরিমাণ সহজামানত নেওয়া যেতে পারে।

২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব ঋণ হিসাবে বিধি অনুযায়ী সহজামানত নেই, সেখানে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহজামানত নিতে হবে। ভবিষ্যতের সব ঋণ মঞ্জুরি, নবায়ন ও বর্ধিতকরণের ক্ষেত্রেও তা নিতে হবে। কিন্তু অরবিডের ক্ষেত্রে সীমা অনুমোদন ও বর্ধিতকরণে এই নির্দেশনা মানা হয়নি।

নিরীক্ষার জবাবে শাখা কর্তৃপক্ষ জানায়, সহজামানত হিসেবে ৩৩ শতাংশ জমি বন্ধক নেওয়া হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনপত্রে অতিরিক্ত সহজামানতের কোনো শর্ত ছিল না। তাই শাখা নিজ উদ্যোগে তা নিতে পারেনি। তাদের ভাষ্য, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধায় দেড় গুণ সহজামানতের বিধান প্রযোজ্য নয়।

শাখা কর্তৃপক্ষ জানায়, শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিপরীতে প্রধানত রপ্তানি এলসি বা চুক্তিপত্র জামানত হিসেবে লিয়েন রাখা হয়। লিয়েন মানে ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের ওপর ব্যাংকের দাবি বা অধিকার রাখা। রপ্তানি এলসিই মূল জামানত হওয়ায় অতিরিক্ত সহজামানত নেওয়া হয়নি।

এই জবাবকে আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক মনে করেনি নিরীক্ষা দল। তাদের বক্তব্য, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির ক্ষেত্রে সহজামানত প্রযোজ্য নয় বলা হলেও রপ্তানি ঋণের বিপরীতে সমপরিমাণ সহজামানত নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এলসি লিমিট সুবিধায় সহজামানত নেওয়ার প্রয়োজন নেই; এমন কোনো নির্দেশনা ঋণ মঞ্জুরি ক্ষমতা বিধির কোথাও উল্লেখ নেই।

৫০২ সেট মেশিনারিজের জায়গায় মিলেছে ২০৪টি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকের প্রকৃত রপ্তানি সক্ষমতা সঠিকভাবে যাচাই না করে এলসি সুবিধা দিয়েছে দিলকুশা করপোরেট শাখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এফডি সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার প্রস্তাব বিবেচনার আগে শাখাকে নিশ্চিত হতে হয়, কারখানায় সব উপকরণ আছে কি না। উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী প্রস্তাবিত রপ্তানি যথাসময়ে করা সম্ভব হবে কি না, তাও নিশ্চিত হতে হয়। অরবিডের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ২৮ জুন কারখানায় ৫০২ সেট মেশিনারিজ থাকার কথা বলা হয়। উৎপাদন ক্ষমতার ওই পরিদর্শন প্রতিবেদন ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে পেশ করা হয়। নিরীক্ষা দল কারখানায় সরেজমিন পরিদর্শনে যায় ২০২৫ সালের ২১ মার্চ। তারা সচল ও অচল মিলিয়ে মাত্র ২০৪টি মেশিনারিজের অস্তিত্ব পায়। নিরীক্ষা দলের মতে, এভাবে গ্রাহকের প্রকৃত রপ্তানি সক্ষমতা যাচাই না করেই ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

অরবিডকে ১১টি সেলস কন্ট্রাক্ট (বিক্রয় চুক্তি) এবং সাতটি রপ্তানি ঋণপত্রের বিপরীতে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৮৮টি ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়া হয়। রপ্তানি ব্যর্থ হওয়ায় ২০২২ সালের ২৬ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর এই ৮৮টি এলসির দায় শোধে ৮৮টি ডিমান্ড লোন সৃষ্টি করা হয়। ডিমান্ড লোন হলো এলসির দায় সময়মতো শোধ না হলে ব্যাংকের তৈরি করা ঋণ, যা চাওয়ামাত্র পরিশোধযোগ্য। পরে গ্রাহকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে ২১টি ডিমান্ড লোন সমন্বয় করা হয়। বাকি ৬৭টি অসমন্বিত ও অনাদায়ী থেকে যায়। এই ৬৭টির স্থিতি ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ২২ কোটি ৮২ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৫ টাকা। রপ্তানি ব্যর্থতার কারণও শাখা উদ্ঘাটন করেনি।

অডিট আপত্তির জবাবে শাখা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশি ক্রেতা সময়মতো মালামাল না নেওয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে নিতে অস্বীকার করায় কিছু পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। এর বাইরে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত সরকারি নির্দেশে করোনার কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। ফলে কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি সম্ভব হয়নি। ডিমান্ড লোন শোধের মতো উৎপাদন চালু রেখে রপ্তানি অব্যাহত রাখা গ্রাহকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

নিরীক্ষা দল এই জবাবকে আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক মনে করেনি। তাদের বক্তব্য, বিদেশি ক্রেতা মালামাল না নেওয়ায় কিছু পণ্য রপ্তানি করা যায়নি। এর কোনো নজির নথি পর্যালোচনায় পাওয়া যায়নি। জবাবের সঙ্গে এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণও পাঠানো হয়নি।

রপ্তানি না হলে সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল বা তৈরি পোশাক কারখানায় ‘ব্যাড স্টক’ হিসেবে থাকার কথা। ব্যাড স্টক বলতে রপ্তানি না হওয়া মজুত পণ্য বোঝানো হয়। কিন্তু রপ্তানি ব্যর্থতায় সৃষ্ট ব্যাড স্টকের মালামালের অস্তিত্ব নিরীক্ষা দলকে দেখানো যায়নি।

এ বিষয়ে নিরীক্ষা দলের বক্তব্য, ব্যাংকের তদারকি না থাকায় ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে মালামাল না কিনে ‘একমোডেশন বিল’-এর মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। অথবা উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন গ্রাহক। অ্যাকমোডেশন বিল হলো সাধারণত প্রকৃত পণ্য লেনদেন ছাড়া শুধু অর্থ ছাড়ের জন্য তৈরি করা বিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণ মঞ্জুরি ক্ষমতা বিধির ষষ্ঠ খণ্ড অনুযায়ী চুক্তিপত্রের বিপরীতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতার ক্রেডিট রিপোর্ট নিতে হয়। রপ্তানি ঋণপত্র হতে হয় ইরিভোকেবল ও কনফার্মড। ইরিভোকেবল মানে অপরিবর্তনীয়, কনফার্মড মানে নিশ্চিতকৃত ঋণপত্র। কিন্তু সেলস কন্ট্রাক্ট ও রপ্তানি ঋণপত্রের যথার্থতা যাচাই করা হয়নি।

রপ্তানি ব্যর্থতার ক্ষেত্রে আরও কিছু নিয়ম মানা হয়নি। ‘গাইডলাইন্স ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন (২০১৮) অনুযায়ী, রপ্তানি ব্যর্থ হলে ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও কারণ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রিপোর্ট করতে হয়। স্টকলটের মালামাল ব্যাংকের নিবিড় তদারকিতে রাখারও শর্ত আছে। স্টকলট বলতে সাধারণত রপ্তানি না হওয়া বা উদ্বৃত্ত পোশাক বোঝানো হয়। কিন্তু এই শর্তও পরিপালন করা হয়নি।

প্রণোদনা ঋণ ও ভিন্ন সাইনবোর্ড

করোনা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ অরবিডকে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৮ টাকা দেওয়া হয়। ঋণ বিতরণ করা হয় ২০২০ সালের ১১ মে, ১০ জুন ও ২৮ জুলাইয়ের মঞ্জুরিপত্রের মাধ্যমে।

নিয়ম অনুযায়ী ঋণের টাকা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীর হিসাবে সরাসরি দিতে হয়। এ জন্য প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে হয়। কিন্তু শাখার ২০২০ সালের ১৯ মের অফিস নোট পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসব না নিয়েই বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। ফলে মঞ্জুরিপত্রের শর্ত অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায় করা যায়নি। এই ঋণের স্থিতি ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৫২৮ টাকা।

শাখা কর্তৃপক্ষ জানায়, সব নিয়ম মেনে নগদ-এর মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মোবাইল নম্বরে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিতরণের পর গ্রাহকের হিসাবে ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৪ টাকা আদায় হয়েছে। রপ্তানি ব্যবসা বন্ধ থাকায় বাকি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি।

নিরীক্ষা দল সরেজমিন পরিদর্শনে যায় ২০২৫ সালের ২১ মার্চ। সেখানে অরবিড এ্যাপারেলসের নামের সাইনবোর্ডের পাশাপাশি ‘মেসার্স সানমি ফ্যাশনস লিমিটেড’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে এলসির দায় শোধ-পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব না থাকার কথা বলা হয়েছে।

ডিমান্ড লোনের স্থিতি ২২ কোটি ৮২ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৫ টাকা এবং প্রণোদনা ঋণের স্থিতি ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৫২৮ টাকা। দুটি মিলিয়ে দায়স্থিতি ২৬ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ১৪৩ টাকা। সহজামানতের তুলনায় দায়স্থিতি বেশি হওয়ায় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিরীক্ষা দল শাখা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচটি বিধি ও নির্দেশনা লঙ্ঘনের উল্লেখ করেছে। জবাবে শাখা কর্তৃপক্ষ জানায়, দায় আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দায় নির্ধারণ করে ক্ষতির টাকা আদায়ের তাগিদ দিয়েছে নিরীক্ষা দল।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। তিনি প্রশ্ন লিখে পাঠাতে বলেন। সে অনুযায়ী গত ১৫ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপে তাকে প্রশ্ন লিখে পাঠানো হয়। পরে জানান, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রশ্ন পাঠিয়েছেন। জবাব পেলে ফরোয়ার্ড করবেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। কল দিয়েও সাড়া মেলেনি।

মেসার্স অরবিড এ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রাহমানকেও একাধিকবার মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি।