‘জুলাইয়ের নাজরানা’ ঢাবিতে ছাত্রী সংস্থার ভিন্ন পরিবেশনা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘জুলাইয়ের নাজরানা’ কর্মসূচির প্রথম দিনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সমাপনী হবে দুদিনব্যাপী এ আয়োজনের।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ভিন্ন রকম আয়োজন করে ঢাবি ছাত্রী সংস্থার নেত্রীরা। আজ ছিল প্রথম দিন।
জুলাইয়ের স্মৃতিকে ধারণ করে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আহতদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের চেতনা তুলে ধরার লক্ষ্যে এ স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর কার্যনির্বাহী ও সিনেট সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট ও গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘রঙ তুলিতে জুলাই’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা শিল্পের মাধ্যমে জুলাইয়ের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের চিত্র তুলে ধরেন।
পরে জুলাই স্মারক হিসেবে দেয়ালিকা উন্মোচন করা হয়। প্রথম দিনের আয়োজনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘জুলাই প্রদর্শনী’ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। প্রদর্শনীতে জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র, স্মারক ও ঐতিহাসিক উপকরণ স্থান পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। তিনি তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া তিনি জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এরপর জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। এ সময় পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্যাতন এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের নানা স্মৃতি উঠে আসে।
বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক পর্বে জুলাইয়ের গান, দেশাত্মবোধক গান, ম্যাশআপ ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। এতে পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে সন্দীপন শিল্পীগোষ্ঠী, রেদোয়ান শিল্পীগোষ্ঠী এবং ফুলের মেলা জাতীয় শিশু সংগঠন।
দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান আগামীকাল ৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।
.png)

