ঢাবি শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গ্রন্থাগারের বই ফেরত দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীকে জরিমানা গুণতে হয়েছে মাত্র এক টাকা। সেই টাকা জমা দিতে তাকে যেতে হয়েছে ব্যাংকে। দাঁড়াতে হয়েছে লাইনে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবার যুগে এসে এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকে যাওয়ার নিয়ম অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। অথচ ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থগার ও এর অধীন বিজ্ঞান পাঠাগারে অনেক বছর ধরে এ নিয়ম চলে আসছে।
বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে গতকাল (৬ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার। যখন ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে পোস্ট করেন।
তিনি জানান, পূজার ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে বই জমা দিতে পারেননি। ২২ অক্টোবরের পরিবর্তে ৩ নভেম্বর বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে বই জমা দিতে গেলে তাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়। সেখানের এক কর্মকর্তা তাকে জানান, নির্ধারিত ফরমে টিএসসির জনতা ব্যাংক শাখায় লাইনে দাঁড়িয়ে এক টাকার কয়েন দিয়ে তা পরিশোধ হবে।
বর্তমান লেনদেনে এক টাকার কাগুজে নোট এখন আর তেমন দেখা যায় না। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নোট ছাপানোর তালিকাতেও এক টাকার নোট না থাকায় শুধু ধাতব কয়েনই ভরসা।
অথচ শিক্ষার্থীদের ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমাতে ২০২৫ সালের ১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলের বিভিন্ন ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার সুবিধা চালু করা হয়েছিল।
এদিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ওয়েবসাইটেই জরিমানার হার ও আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে দুই ধরনের তথ্য রয়েছে। ওয়েবসাইটের এক অংশে প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০ পয়সা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এক টাকা জরিমানার কথা বলা হলেও অধ্যাদেশভিত্তিক নীতিমালার ১৪ নম্বর বিধানে সপ্তাহপ্রতি ২৫ পয়সা হারে জরিমানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরে নগদে আদায়ের উল্লেখ রয়েছে।
ব্যাংকে গিয়ে জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার এই নিয়মকে অযৌক্তিক বলে মনে করেন ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক।
তিনি জানান, প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। অল্প পরিমাণ জরিমানা অনলাইনে বা বিকল্প উপায়ে আদায়ের ব্যবস্থা করতে আসন্ন লাইব্রেরি কমিটির সভায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।


