Advertisement

কুবিতে গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুবি
কুবিতে গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে গ্যাস উৎপাদন না হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলো ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় রান্না বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা খাবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন দুদিন যাবৎ গ্যাস না থাকায় রান্না হচ্ছে না। এ ছাড়া এ মাসের শুরুতে দুদিন গ্যাস সংকটে রান্না হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮৪। পাঁচটি আবাসিক হলে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের আশেপাশের অবস্থিত মেস থেকেও অনেক শিক্ষার্থী এসে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার খায়।

বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আজকে দুদিন ধরে হলে গ্যাস নেই, গ্যাস না থাকার কারণে ২ দিন ধরে ডাইনিংয়ে রান্নাও হচ্ছে না। বাইরেও মানসম্মত খাবার পাচ্ছি না। গ্যাসের সাপ্লাই খুবই অল্প থাকায় আজকে ডাইনিংয়ে খাবার রান্না করতে গিয়ে ভাত এবং তরকারি নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের উচিত খুব দ্রুতই এই সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করা।

কাজী নজরুল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ওসমান গণি এশিয়া পোস্টকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ের গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর রান্নাবান্নায়। বিকল্প হিসেবে হলের বাইরে হোটেল থেকে খাবার কিনতে গেলেও অনেক সময় খাবার পাওয়া যায় না; পাওয়া গেলেও বাড়তি দামে কিনতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হারেজ আহমদ বলেন, হলের ডাইনিংয়ে যেখানে একজন শিক্ষার্থী মাত্র ৪০–৪৫ টাকার মধ্যে খাবার খেতে পারে, গ্যাস না থাকায় বাইরের হোটেলে একই খাবারের জন্য প্রায় ৮০–১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ বহন করা অনেক কঠিন। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হলের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা বলেন, গ্যাস না থাকার কারণে গতকাল রাতে হলে খাবার তৈরি হয়নি। আজ দুপুরেও খাবার তৈরি হয়নি। বাইরে থেকে খাবার কিনতে গেলে সময় অপচয় এবং অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। অনেকের মিডটার্ম এবং সেমিস্টার ফাইনালে চলছে, তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

সুনীতি-শান্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রোম্মানা হোসেন বলেন, অনেক সময় হলগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে। এতে পরীক্ষা, পড়াশোনা ও অন্যান্য একাডেমিক কাজে সমস্যা হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পরও ওয়াইফাই স্বাভাবিক হতে সময় লাগে, ফলে নেটওয়ার্ক সুবিধাও ব্যাহত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, সাধারণত রান্না করার জন্য টেম্পারেচার ৭০ ডিগ্রি রাখতে হয়। এরচেয়ে কম হলে খাবার ঠিকমতো সিদ্ধ হবে না। ফলে নানাবিধ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন- ডায়রিয়া, আমাশয়, হেপাটাইটিস এ ও পেটের পীড়া।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এশিয়া পোস্টকে বলেন, গতকাল গ্যাস না থাকায় আমরা লাকড়ি দিয়ে রান্না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ বৃষ্টি থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। তাই রান্না বন্ধ আছে। আমরা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিব যেন আমাদেরকে একটি শেড দিয়ে রান্নাঘর তৈরি করে দেয়। সেখানে গ্যাস না থাকলেও লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যাবে।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. মো. জনি আলম বলেন, আমি বাখরাবাদে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে এটা ন্যাশনাল সংকটের কারণে হচ্ছে। তিন-চারদিনের আগে গ্যাস আসবে না বলে জানিয়েছে তারা। তবে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করার জন্য আমরা বিকল্প চিন্তা করছি। ভিসি স্যার ও প্রো-ভিসি স্যারের সঙ্গেও যোগাযোগের একটি প্রক্রিয়া চলছে।

কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কাফেটেরিয়া কমিটির আহ্বায়ক মো. হারুন বলেন, অন্যান্য সময়ে বাইরে লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যেত কিন্তু বৃষ্টি থাকায় সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। ক্যাফেতেও গ্যাস সংকটের জন্য রান্না করা সম্ভব হয়নি। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটা ন্যাশনাল ক্রাইসিস হওয়ায় তাদের হাতেও সমাধান নেই।

এ বিষয়ে জানতে উপ-উপাচার্যের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাখরাবাদ গ্যাস অফিস এশিয়া পোস্টকে জানায়, ন্যাশনাল গ্রিডের জন্য টেম্পারেচার কমে গিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। আরও দু-একদিন লাগতে পারে এই সংকট সমাধান করতে।