ববিকে প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের স্মারক হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে (ববি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত ও পাস হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, সিন্ডিকেটে বিষয়টি পাস হয়েছে এবং এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ এশিয়া পোস্টকে জানান, ১৮ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত করা হয়েছে। আমরা শিগগিরই এটি চ্যান্সেলর (রাষ্ট্রপতি) বরাবরেও প্রেরণ করব।
সিন্ডিকেট সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাক দেয় দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ। আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত অগ্রগামী ও সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৮ জুলাই তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের দলীয় ক্যাডাররা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর মারাত্মক হামলা চালায়। সেই রক্তঝরা দিনে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও বুলেটের তোয়াক্কা না করে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় আরও জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের অদম্য সাহসিকতা ও প্রতিরোধের মুখে ১৮ জুলাই বিকেলেই স্বৈরাচারী সরকারের পেটুয়া বাহিনী আন্দোলনকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ফ্যাসিস্ট বাহিনীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়ার গৌরবান্বিত নজির স্থাপন করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধই পরবর্তীতে পুরো বরিশাল অঞ্চলে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত গতি দিয়েছিল।



