Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফ্যাসিস্ট আমলের মতো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চবি
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফ্যাসিস্ট আমলের মতো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস কীভাবে আমরা তৈরি করতে পারি সেজন্য কাজ করছি। কারণ, এখন হয়তো দৃশ্যত একটা গণতন্ত্র আছে মনে হচ্ছে, কিন্তু এটা কিন্তু টেকসই গণতন্ত্র না। ফ্যাসিস্ট আমলের মতো বর্তমানে একই প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের একটা একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব নাজুক ছিল, প্রশাসনে দলীয়করণ ছিল ও হলে একক আধিপত্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকদের ন্যক্কারজনক ভূমিকার কারণে হাসিনার আমলে সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের ক্ষমতার একক আধিপত্য ছিল। তখন বহু ছাত্রকে নির্যাতিত, নিপীড়িত হতে হয়েছে। এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু মারামারির কথা আমরা পত্রিকায় পড়েছি, বহু সংঘর্ষ ও নির্যাতন, নিপীড়নের কথা আমরা শুনেছি। ​আমি মনে করি, সেই ভিকটিমদেরকে সামনে আসা উচিত, কথা বলা উচিত।

নাহিদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের সফলতার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রথমেই ক্ষমতার মূল কেন্দ্র হিসেবে ক্যান্টনমেন্টকে বেছে নেয়। আর এর মাধ্যমেই আমাদের হাত থেকে অনেক কিছু হাতছাড়া হয়ে যায়। যেহেতু আমরা তখন সুসংগঠিত ছিলাম না, তাই ক্ষমতার সেই কেন্দ্রবিন্দুকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভবনে নিয়ে আসতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে আমাদের বারবার ক্যান্টনমেন্টে ডাকা হলেও আমরা যাইনি। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম যে আমরা ক্যান্টনমেন্টে যাব না; অন্তত বঙ্গভবনে এসে সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ​ক্ষমতাসীনরা কখনোই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। কিন্তু আমরা মনে করি, জনগণ শিক্ষা নিয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করেছে, যদি আগামীতেও এই ধরনের ফ্যাসিবাদ তৈরির চেষ্টা করা হয়, আমি বিশ্বাস করি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই প্রথম প্রতিরোধ তৈরি হবে। আজকে বিরোধী দলের একটি প্রোগ্রামে আপনি আসতে পারছেন, সেটার জন্য আপনাকে কেউ ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য বহু মানুষের জীবন ও রক্ত দিতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের যে ধারা তৈরি হয়েছে, এটা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ​আমরা হবিগঞ্জে দেখলাম যারা আরিফের চোখ তুলে ফেলল আজকে তাদের জামিন হয়ে গেছে। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাদের জামিন করে দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে আইফোন চুরির মামলা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে যে আপনারা সচেতন থাকুন।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে ছিল, কিন্তু বর্তমানে যারা জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব দাবি করছে, তারাই ৫ আগস্ট সবার আগে ক্যান্টনমেন্টে চলে গিয়েছিল। রাজপথে সাধারণ জনগণ এবং ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে যে গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যান্য আন্দোলনের চেয়ে এর মূল পার্থক্য এখানেই। এই আন্দোলন কোনো সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্বে কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় হয়নি; বরং এর মূল চালিকাশক্তি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ মানুষ।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সফলতার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রথমেই ক্ষমতার মূল কেন্দ্র হিসেবে ক্যান্টনমেন্টকে বেছে নেয়। আর এর মাধ্যমেই আমাদের হাত থেকে অনেক কিছু হাতছাড়া হয়ে যায়। যেহেতু আমরা তখন সুসংগঠিত ছিলাম না, তাই ক্ষমতার সেই কেন্দ্রবিন্দুকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভবনে নিয়ে আসতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে আমাদের বারবার ক্যান্টনমেন্টে ডাকা হলেও আমরা যাইনি। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম যে আমরা ক্যান্টনমেন্টে যাব না; অন্তত বঙ্গভবনে এসে সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত হতে হবে।