logo

কুবিতে সংঘর্ষ তদন্তে দুই কমিটি, ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন

কুবিতে সংঘর্ষ তদন্তে দুই কমিটি, ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইসিটি বিভাগ ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে তিন সদস্যের একটি আইটি বিশেষজ্ঞ কমিটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত দিক পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। উভয় কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, আইটি বিশেষজ্ঞ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদুল হাছানকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ এবং সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন আইসিটি সেলের ডাটাবেজ প্রোগ্রামার মো. মাসুদুল হাসান।

এই কমিটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর সংঘটিত ঘটনার আইসিটি ও প্রযুক্তিগত দিক পর্যালোচনা করবে। বিশেষ করে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান এবং বিজয়-২৪ হলের হাউজ টিউটর মো. বুলবুল আহমেদ। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন রেজিস্ট্রার অফিসের ডেপুটি-রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন।

এই কমিটিকে ২৭ সেপ্টেম্বর আইসিটি বিভাগ ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, আইসিটি বিভাগ ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইব্রেরিতে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটির পর বিষয়টি প্রক্টর অফিসে মীমাংসা করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে আবারও উত্তেজনা তৈরি হলে কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল পর্যন্ত গড়ায়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেডিকেল সেন্টারের উপপ্রধান মাহমুদুল হাসান সোহাগ। তাদের মধ্যে আটজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের হাত ভেঙে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসাইন এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছিলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। হলে আক্রমণের ঘটনাও কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ভিডিও ফুটেজ দেখে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।