ঢাবির জসীমউদ্দীন হলে ছাত্রদলের দুপক্ষের হাতাহাতি, নেতাকে মারধর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীমউদ্দীন হলে আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের দল গঠনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে হলের ফটকে এ ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ঢাবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরে এটিই প্রথম কোনো সংঘর্ষের ঘটনা।
জানা যায়, সোমবার রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা এক উত্তপ্ত সভার পর এই হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনকে মারধর করেন ২০২৪-২৫ সেশনের কয়েকজন জুনিয়র কর্মী। মূলত হল শাখার আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামীম এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের অনুসারীদের মধ্যে এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের এক কর্মী জানান, আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের দল গঠন নিয়ে হল আহ্বায়ক হামীম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মুহতাসিম বিল্লাহ হিমেলের মধ্যে তীব্র তর্ক শুরু হয়। সভায় হিমেল অভিযোগ করেন, হলের শীর্ষ পদে থাকা সত্ত্বেও হামীম প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার সভা শেষে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা হলের ফটকে জড়ো হলে সেখানে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা এবং মারধরের শিকার সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদককে তিনি বলেন, এইটাই এখন অ্যাড্রেস কইরো না। বুঝছো? তোমার সঙ্গে যে আমার এই ফোন কলে কথা হইছে বা কোনো বক্তব্য দিতে চাই নাই, এইটাও কোথাও অ্যাড্রেস কইর না। আর এই ব্যাপারে এখন কথা বলব না। যদি আমি প্রয়োজন বোধ করি, তোমাকে নিজেই কল দেব। ভিডিও নিয়ে যা খুশি লেখ বা যা পার লেখ।
তবে মারামারি বা হাতাহাতির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামীম। তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক দাবি করে বলেন, এ রকম কিছু হয়নি। আমরা মিটিংয়ে সবসময় আলোচনা, সমালোচনা ও তর্কবিতর্ক করি। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়।
