logo
Advertisement

জাবিতে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জাবি
জাবিতে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত
জিওসায়েন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) টেকসই উন্নয়নবিষয়ক জাতীয় সেমিনার ‘জিওসায়েন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে দিনব্যাপী এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ জিওলজিক্যাল সোসাইটি (বিজিএস) এবং জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (জেইউজিএসএএ) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে দেশের খ্যাতিমান ভূবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা ভূ-আকৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-দুর্যোগ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। চারজন মূল বক্তা টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-দুর্যোগ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ভূ-আকৃতি বিষয়ে তাদের বিভিন্ন গবেষণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এ ছাড়াও সেমিনারে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চারটি মূল বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিষয়গুলো হলো—ভূ-আকৃতি, ভূ-দুর্যোগ, পানি সম্পদ এবং জলবায়ু।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবশ্যই মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে। মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদজগৎ ও প্রকৃতির সমগ্র জীবন্ত অংশের স্বার্থ ও অধিকার সমানভাবে রক্ষার ওপরও জোর দিতে হবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে ব্যবধান থাকায় জ্বালানি বা পরিবেশগত সংকট নিরসনে দেশের সক্ষমতা নীতিনির্ধারকদের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে না। ফলে বিদেশি গবেষকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

জাবির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যাপক খলিলুর রহমানের অবদান স্মরণ করে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকে নীরবে কাজ করা ভূতাত্ত্বিকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিবিদদের সংযোগ না থাকায় তাদের গুরুত্ব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। দেশের গ্যাস সংকট, বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় তাদের গবেষণা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে ভূতাত্ত্বিক তথ্যকে পরিকল্পিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নীতিনির্ধারণ হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকেই শিক্ষাক্রমে ভূতত্ত্ব ও পৃথিবীবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই পরিবেশগত দায়িত্ববোধ ও দুর্যোগ সচেতনতা গড়ে তুলতে পারে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন খান, অধ্যাপক ড. এ টি এম শাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক ড. খায়রুল বাশার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন এবং সদস্যসচিব ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মো. সায়েম।