মধুর মান যাচাইয়ে এআই ব্যবহার নিয়ে হাবিপ্রবিতে কর্মশালা

মধুর বিশুদ্ধতা, গুণমান ও প্রকৃত উৎস শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মাল্টি-মোডাল ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবহারের লক্ষ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ইনসেপশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
গবেষণা প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মধুর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি তৈরি করা। এতে মধুর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও পরীক্ষাগারভিত্তিক তথ্য একত্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মধুর সত্যতা ও গুণমান নির্ণয়ের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হবে। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে মধু উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কর্মশালায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল্লাহ জানান, হাবিপ্রবির গবেষণাকে এখন শুধু গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গবেষণার ফলাফলকে মানুষের জীবন ও শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে হবে। মধুর মতো কৃষিভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মান ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সময়োপযোগী উদ্যোগ। বিজ্ঞান, কৃষি ও কম্পিউটার প্রযুক্তির সমন্বয়ে এ ধরনের আন্তঃবিষয়ক গবেষণা হাবিপ্রবির গবেষণার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে মধু উৎপাদন ও বিপণনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভোক্তার আস্থা অর্জনের জন্য পণ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি। গবেষণার মাধ্যমে যদি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে মধুর গুণমান ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের প্রযুক্তি তৈরি করা যায়, তাহলে তা কৃষক, উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সবার জন্যই উপকারী হবে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের গুণমান ও সত্যতা যাচাইয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। মধুর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তথ্য একত্র করে এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ চালানো গেলে প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতির পাশাপাশি আরও দ্রুত ও কার্যকর মান যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান এবং আইসিইটিইপির প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক গাজী মো. নাজরুল ইসলাম।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আরডিজি সাব-প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মাসুদ ইবনে আফজাল এবং অধ্যাপক ড. আরিফ ইফতেখার মাহমুদ।
গবেষণাটিতে হাবিপ্রবির রসায়ন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জ্ঞানকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মশালাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বাস্তব শিল্পসমস্যার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি শিল্পখাতে প্রয়োগের পথ তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রকল্পটি আইসিইটিইপির আরডিজি সাব-প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ গবেষণা উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে রয়েছে হাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগ এবং ইন্ডাস্ট্রি সহযোগী হিসেবে রয়েছে ফ্যাক্টরি নেক্সট।



