logo

যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, দুই সহযোগী অধ্যাপক ও দুই সহকারী অধ্যাপকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. আকতারুল ইসলাম।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হবে। অপর মামলাটি করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি (এনএফটি) বিভাগের দুই সহযোগী অধ্যাপক ও দুই সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ছাড়াও রয়েছেন সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরত জামান। অপর মামলায় অভিযুক্তরা হলেন পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিমুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান ও সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া অভিযুক্ত সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, দুদক আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে শুনেছি। কাল বিভাগে গিয়ে বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারব।

একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিমুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের অনিয়মটি আমিই প্রথম ধরেছিলাম। আমরা শুধু বলেছিলাম, ভাইভার জন্য কার্ড দেওয়া যেতে পারে। নিয়োগ তো দিয়েছে নিয়োগ বোর্ড। প্ল্যানিং কমিটির কাজ ছিল কারা ভাইভায় অংশ নিতে পারে তা বাছাই করা। কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে বা হবে না, সেটি সম্পূর্ণ নিয়োগ বোর্ডের বিষয়। অথচ যে অনিয়ম আমি ধরিয়ে দিলাম, এখন আমাকেই ফাঁসানো হচ্ছে।

সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, আমাদের এনএফটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং কমিটির কাজ ছিল বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী প্রার্থীর প্রাথমিক কার্ড ইস্যু করা। চূড়ান্ত নিয়োগের এখতিয়ার ছিল নিয়োগ বোর্ডের। মাহমুদুল হাসানের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও পিএইচডি থাকায় আমরা তাকে ভাইভার জন্য কার্ড দিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে প্রার্থীর আবেদন ফরমে তথ্য রদবদলের অভিযোগ উঠলে দুদক আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি লিখিতভাবে জানিয়েছি, আবেদনপত্রের ওই সূক্ষ্ম ভুল ধরা প্ল্যানিং কমিটির পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা শুধু যোগ্যতা দেখে কার্ড দিয়েছি, নিয়োগ দিইনি। তাই এখানে আমাদের কোনো দায় নেই।

একই বিভাগের অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান চাকরি ছেড়ে আগেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে গেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরত জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।