দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বাকি কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবি জকসুর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তান্তর, নির্মাণাধীন দুটি ছাত্র হলের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ বৃত্তির বাকি অর্থ দ্রুত বিতরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণাধীন দুটি ছাত্র হলের কাজ শেষ করার আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম। এসময় জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, সমাজসেবা সম্পাদক, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘদিনের শিক্ষার্থীদের দাবি। শুরু থেকেই দ্বিতীয় ধাপের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে জকসু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করে আসছে। প্রকল্পের ডিপিপি ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর পুনরায় জমা দেওয়া হলেও কাজ হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে আজ উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্বিতীয় ধাপের নির্মাণ কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে আন্তরিক ও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
জকসুর দাবি, আগামী এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অন্যথায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নির্মাণাধীন দুটি ছাত্র হল প্রসঙ্গে জকসু ভিপি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ডিসেম্বরের মধ্যেই হল দুটির নির্মাণকাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে। জকসু এ আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ডিসেম্বরের পর যেন কাজ আর দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ বৃত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের পরও এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ কোটি টাকা ছাড় করা সম্ভব হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত মোট ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে এখনও ৪৬ কোটি টাকা বাকি রয়েছে। জকসুর দাবি, চলতি বাজেট থেকেই দ্রুত বাকি অর্থ ছাড় করে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জকসু জানায়, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে তারা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তবে দাবি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অনিয়ম হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তার নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ, বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে জুলাইভিত্তিক গ্রাফিতি অঙ্কন, জুলাইয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি, ‘৩৬ জুলাই’ র্যালি, জুলাই স্মৃতি আবৃত্তি, ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী, আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ভিডিও প্রতিযোগিতা, সেমিনার এবং বিভিন্ন সৃজনশীল আয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে জকসু নেতারা এসব কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।




