logo

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আরএনবির ৪ সদস্য বরখাস্ত

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আরএনবির ৪ সদস্য বরখাস্ত
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মারধরের প্রতিবাদে স্টেশনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনায় স্টেশনজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্টেশনের প্রবেশগেট, টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ সময় আতঙ্কে ঢাকাগামী যাত্রীরা ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে অবস্থান নেন।

এর আগে রোববার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে চাচাকে নিতে গিয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যদের মারধরের শিকার হন রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী।

পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হলে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরএনবি সদস্যরা হলেন, মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নং-সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (স্টাফ নং-সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (স্টাফ নং-সি-১৩২১) ও মো. শাহাদত হোসেন (স্টাফ নং-সি-৬০০)।

রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ছবি : এশিয়া পোস্ট
ছবি : এশিয়া পোস্ট

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইয়ুব আলী তার চাচাকে নিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যান। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রায়হান আলী বলেন, স্টেশন থেকে ফেরার পথে গেটের কাছে গোলমাল দেখতে পান তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে মারধর করতে দেখেন। তাদের পোশাক দেখে মারধরের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন রাবি শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত হন তিনি।

আইয়ুবের সহপাঠী রেদোয়ান ইসলাম বলেন, আইয়ুবকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চাচা-চাচিকে নিতে তিনি স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানে টিটিইসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই রাবির বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো হন। তারা স্টেশনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্টেশনের প্রবেশগেট, টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ সময় পুরো স্টেশন এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে ঢাকাগামী যাত্রীরা নিরাপত্তার কারণে ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে অবস্থান নেন। স্টেশনজুড়ে তৈরি হয় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

ঘটনার প্রতিবাদে রাকসুর জিএস সালাউদ্দীন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দিবা? ক্যাম্পাসের উপর দিয়ে ট্রেন চললে ভালোভাবে চলতে হবে। ১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে প্রত্যেক ট্রেন থেকে ২ জন করে ট্রেন স্টাফ তুলব আমি।’

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ‘আইয়ুব আলী যাত্রী ছিলেন না; ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমস্যা হওয়ায় সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করাই তার “অপরাধ”। তার মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং অপারেশন লাগতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।’

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্টেশনের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। রাত পর্যন্ত স্টেশন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

এ বিষয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।