logo

জাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত

জাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত
জাবি উপাচার্য ড. কামরুল আহসানের আশ্বাসে প্রশাসনিক ভবনের গেটের তালা খুলে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় চলমান আন্দোলন ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানের আশ্বাসে প্রশাসনিক ভবনের গেটের তালা খুলে দেয় তারা।

এর আগে, উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের প্রথম থেকে প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকার প্রধান আইজিপিকে নির্দেশনা দিয়েছেন দুষ্কৃতকারীকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে। আশা করছি, অতি দ্রুত অপরাধী গ্রেপ্তার হবে এবং তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হবে।

এসময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের জাবি উপাচার্য বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অবহিত করেছি এবং তাদেরকে আশ্বাস প্রদান করেছি অচিরেই আমরা একটা ইতিবাচক ফলাফল পাব।

ju movement1
ju movement1

এ ছাড়া প্রশাসনের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দায়িত্ব পালনে দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক আন্দোলন ও দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রয়োজনে ক্যাম্পাসের বন্ধের ভেতরেও তদন্ত কাজ চলমান রাখব। গ্রীষ্মকালীন ও ঈদের ছুটি একসঙ্গে ২১ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তাই তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের পরিবর্তে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে তাদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হবে এবং সেই দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করার সবকিছু করা হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তিন দিনের দাবিকে সম্মান জানিয়ে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে, তবে পূর্বঘোষিত সাত দিনের সময় ঠিক থাকবে।

তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেওয়ার পরে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ২০ মের মধ্যে তদন্ত কমিটি দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুনরায় সর্বাত্মক আন্দোলনে নামবেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি অপরাধীকে আটক এবং ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে বলে তারা আশা করছেন। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে, আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তাদের দাবিগুলো উপাচার্যের উপস্থিতিতে আবার তুলে ধরেন। এ সময়ে প্রশাসনকে ঈদের ছুটির আগে তিন কর্মদিবসে অবশ্যই তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করতে আহ্বান জানায় তারা এবং দাবি করেন, যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হবে অন্ততপক্ষে সেদিন যেন তদন্ত রিপোর্টটি জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালা খুলে দিয়ে অবরোধ তুলে নেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন সড়ক থেকে টেনেহিঁচড়ে এক ছাত্রীকে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করে প্রশাসন। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামি।