শাবিপ্রবিতে ফেস মার্কিং বন্ধে কোডিং পদ্ধতির দাবি শিক্ষার্থীদের

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রোল/রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পরিবর্তে কোডিং পদ্ধতির ব্যবহার চান শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে দাবি জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এ বিষয়টি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে প্রয়োজনে একটি কমিটি গঠন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও পছন্দের শিক্ষার্থীকে বাড়তি নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে রোল নম্বর বড় প্রভাব রাখে। এ বিষয়ের সমাধান করতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন সময় কোডিং পদ্ধতি চালুর দাবি তুলেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও একাধিকবার স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এ পদ্ধতি চালু করা একটু চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার, কিন্তু অসম্ভব নয়। এতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলেও ভবিষ্যতে অ্যাকাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
সমাজকর্ম বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অনার্সের সব কোর্সে ৩ দশমিক ৫ গ্রেডের বেশি পেয়েছি। তবে একজন শিক্ষকের দুটি কোর্সে ৩ গ্রেড পেয়েছি। ওই শিক্ষকের কোর্স দুটির টার্ম টেস্টেও ১০ এর মধ্যে তিনি ৩-এর বেশি নম্বর কখনো দেননি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণেই তিনি এই অ্যাকাডেমিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, পরীক্ষার খাতায় কোডিং ব্যবস্থা চালু নিরপেক্ষভাবে খাতা মূল্যায়নের জন্য জরুরি। গত ১৭ বছর রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর সর্বপ্রথম ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে খাতায় কোডিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানায়। এটি চালু হলে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে।
ছাত্রশিবিরের শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, ছাত্রশিবিরও গত ১৭ বছর এই বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ব্যবস্থা চালু হলেও পছন্দের শিক্ষার্থীকে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না সেই প্রশ্ন থেকে যায়।
ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে জোর দাবি জানান।
রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল গালিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফেস মার্কিং’ করাটা একটা কমন বিষয়। ২০১৯ সালে যখন ‘অর্বাচীন’ আন্দোলন করছিলাম তখন থেকেই এই কোডিং পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলাম।
ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রিপন মাহমুদ বলেন, একজন শিক্ষার্থীর হয়ত ক্লাসে একটু পারফরম্যান্স কম ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগে ভালো করে পড়ে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষক পূর্বধারণার ভিত্তিতে নম্বর দেন। আমার সাথেও এমন বৈষম্য হয়েছে। অনেক সময় অভিযোগ জানিয়েছিলাম তবে কোনো প্রতিকার পাইনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন না। তবে শিক্ষার্থীদের যদি এই বিষয়ে দাবি থাকে তাহলে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় প্রধান, ডিন ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করব। প্রয়োজনে একটি কমিটি গঠন করে দেব। কমিটি সেটা নিয়ে কাজ করবে।




