logo
Advertisement

তৃতীয় ভাষা চালুসহ ১৫ পরিকল্পনা নিল ইবি প্রশাসন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ইবি
তৃতীয় ভাষা চালুসহ ১৫ পরিকল্পনা নিল ইবি প্রশাসন
মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তৃতীয় ভাষা চালু, বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার, কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ ১৫টি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশন, শিক্ষা সহায়ক তহবিল ও উচ্চশিক্ষা এনডাউমেন্ট, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সুপারনিউমারারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান। সভায় উপাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনাগুলো হলো—

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট

থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে চায়নিজ, জাপানিজ ও অ্যারাবিককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এটি চালুর জন্য আবারও অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, সেখানে তৃতীয় ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে শিগগিরই চায়নিজ ও জাপানিজের যাত্রা শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন

বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশনকে শিক্ষা ও শিল্পের একটি ঐকতান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্মুথলি ইন্টার্নশিপ করতে পারবে এবং ইন্ডাস্ট্রির মালিকপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তাদের ডিজায়ারেবল ক্যান্ডিডেট খুঁজে নিতে পারবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী মাসের ১২ তারিখে ইন্ডাস্ট্রি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোলাবোরেশন প্রোগ্রাম আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করেছে।

স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ও ক্যাম্পাস সুরক্ষা

স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানের মধ্যে মিড-টার্ম ও লং-টার্ম পরিকল্পনা রয়েছে। ১০টি এজেন্ডার মধ্যে ক্যাম্পাস সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কারণ ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে কিছু অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এক্সিলেন্ট করতে ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল রাখা জরুরি। যে কোনো উন্নয়নের পূর্বশর্তই হচ্ছে স্থিতিশীলতা। তাই সহিংসতা বন্ধ রাখা, র‍্যাগিং, যৌন নিপীড়ন, যৌন হয়রানি বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষা সহায়ক তহবিল ও উচ্চশিক্ষা এনডাউমেন্ট

শিক্ষা সহায়ক তহবিল হিসেবে স্টুডেন্ট সাপোর্ট অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন এনডাউমেন্ট ফান্ডের পরিকল্পনার নেওয়া হবে।

মানসম্মত শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কারিকুলামে বাস্তব জ্ঞানভিত্তিক ও ব্যবহারিক বিষয় সন্নিবেশ করে শিক্ষাকে শুধু ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ না রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গভর্নেন্স, কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স ও ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম

উচ্চশিক্ষায় গভর্নেন্স, কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স ও ইনস্টিটিউশনাল রিফর্মের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগে শিক্ষার সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন সংখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার মান নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থী যেন একজন কোয়ালিফাইড ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণকারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও বিতর্ক কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও বিতর্ক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ডিবেটিং সোসাইটিকে শক্তিশালী করার জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিবেটিং সোসাইটি ও ঢাকার ইয়ুথ ফোরাম যৌথ উদ্যোগে খুব শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রোগ্রাম আয়োজনের পরিকল্পনা করেছি। যেখানে তরুণদের মতামত ও চিন্তা-চেতনা শেয়ার করা হবে। এ বিষয়ে ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর ও ইয়ুথ ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট

শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লজিস্টিক সাপোর্ট—এই তিনটির সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে নিউলি অ্যাপয়েন্টেড শিক্ষকদের জন্য তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে আরও শিক্ষককে পাঠানো হবে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সিনিয়র শিক্ষকদের রিসার্চ রিলেটেড অ্যাক্টিভিটিজে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিউলি অ্যাপয়েন্টেড শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামস হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, এআই ও ইডিইউ আইডি

বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও এআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও এআই প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে গ্র্যাজুয়েটদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইডিইউ আইডি নামে একটি ইউনিক আইডি থাকবে, যেখানে শিক্ষার্থীর টোটাল প্রোফাইল সংরক্ষিত থাকবে। ভর্তি থেকে সার্টিফিকেট অর্জন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সমস্ত ডিজিটাল সেবা ও তথ্য একটি জায়গায় নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে।

ইন্টারন্যাশনাল লিংকেজ ও ইন্টারন্যাশনাল সেল

প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে ইন্টারন্যাশনাল সেল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ইন্টারন্যাশনাল লিংকেজ বৃদ্ধি করা যায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে একটি ফরেন সেল থাকলেও এর কার্যক্রম এখনো খুব বেশি ভাইব্রেন্ট বা দৃশ্যমান নয়। আশা করা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রেও অগ্রসর হওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

স্মার্ট ক্যাম্পাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও অ্যাকাডেমিক ইকোসিস্টেম

স্মার্ট ক্যাম্পাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও গবেষণার অবকাঠামো নিয়ে একটি ভাইব্রেন্ট অ্যাকাডেমিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে লিংকেজ তৈরির পাশাপাশি ইন্টার-ইউনিভার্সিটি লিংকেজ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সুপারনিউমারারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের ট্রান্সফারের সুযোগ না থাকায়, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সুপারনিউমারারি শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার একটি সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেয়ার করা যাবে। এটিকে একটি পজিটিভ সাইন, ইকোসিস্টেম ও ইকো-লার্নিং সিস্টেম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন

গ্র্যাজুয়েটদের অ্যামপ্লয়াবিলিটি ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কারিকুলাম ও সফট স্কিলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল লিটারেসি, কমিউনিকেশন, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, প্রবলেম সলভিং ক্যাপাসিটি ও লিডারশিপ। এর মধ্যে কমিউনিকেশন স্কিলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর কমিউনিকেশন স্কিল যত বেশি গড়ে উঠবে, সে তত বেশি নিজেকে ডেভেলপ করতে পারবে এবং দেশে ও দেশের বাইরে নিজেকে সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারবে।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, গ্রিন টেকনোলজি ও ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ। গ্র্যাজুয়েটরা শুধু চাকরির দিকে ধাবিত না হয়ে অ্যান্টারপ্রেনারশিপের দিকে এগিয়ে যাবে, যাতে তারা নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্যও চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ লক্ষ্যে বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ফাইন্যানশিয়াল সাপোর্ট দেওয়া হবে।