logo

নোবিপ্রবিতে ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধার বাইরে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোবিপ্রবি
নোবিপ্রবিতে ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধার বাইরে
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে এখনও কোনো কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে পায়নি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলে আসন রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৫০টি। ফলে বিপুলসংখ্যক, অর্থাৎ প্রায় ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২০০১ সালে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৩টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি আবাসন সুবিধা। ফলে সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকা কিংবা শহরের মেস, হোস্টেল বা ভাড়া বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনার স্বাভাবিক ব্যয়ের পাশাপাশি বাসস্থান, খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যাতায়াত বাবদ তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলে মোট ২ হাজার ৬৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলে ৪৩০টি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলে ৫১১টি, হজরত বিবি খাদিজা হলে ৪৩৫টি, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ৬১০টি এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ছাত্রী হলে ৫২০টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ডাবলিং ও ফ্রেশার্স রুম অন্তর্ভুক্ত।

বিদ্যমান পাঁচটি হলের মধ্যে দুটি ছাত্রদের এবং তিনটি ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। আসনসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি হওয়ায় হলের একটি আসন শিক্ষার্থীদের কাছে এখন ‘সোনার হরিণ’। বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

প্রথম বর্ষেই তীব্র আবাসন সংকট

সংকটের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন নবীন শিক্ষার্থীরা। ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট শূন্য আসনের অন্তত ৫ শতাংশ সংরক্ষিত থাকলেও বাস্তবতায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ভর্তির পর থেকেই হলের আসনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নবীনদের শুরুতেই আবাসন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, যা তাদের পড়াশোনা ও মানসিক স্বস্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজভীর আহমেদ বলেন, বগুড়া থেকে নোয়াখালীতে পড়তে এসেছি। আমাদের মতো দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হলের আবাসন অত্যন্ত জরুরি। সিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মাইজদী শহরে থাকতে হচ্ছে, যা অর্থ ও সময় দুটোরই অপচয় ঘটাচ্ছে। প্রতিদিন দীর্ঘ যাতায়াতের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, যা পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।

বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ারিয়া বিনতে দেলোয়ার একই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ময়মনসিংহ থেকে এসে মেসে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। বাড়ি ভাড়া, খাবার ও যাতায়াত খরচ মিলে পরিবারের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া যাতায়াতের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।

আবাসন সংকট সমাধানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এশিয়া পোস্টকে জানান, শিক্ষার্থীদের এই আবাসন সংকটের বিষয়ে প্রশাসন সচেতন। সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে নতুন চারটি হল নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ছাত্রদের জন্য দুটি এবং ছাত্রীদের জন্য দুটি হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর পাশাপাশি ক্যাম্পাসে একটি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের প্রস্তাবও জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটসহ অন্যান্য মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।