সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের চেষ্টা হলে ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না: শিবির সভাপতি

সরকারি কর্ম কমিশনসহ (পিএসসি) রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, মেধার মূল্যায়নের পরিবর্তে দলীয়করণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের চেষ্টা করা হলে ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না।
শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আয়োজিত নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আবারও দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে তারা উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনেরও যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা ছিল না। তার অভিযোগ, দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই তাদের এসব পদে বসানো হয়েছে।
পিএসসির নিয়োগ প্রসঙ্গে শিবির সভাপতি বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পদেও দলীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের মূল স্লোগান ছিল কোটা ও মেধার ভিত্তিতে। মেধার মূল্যায়নের জন্য ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে আবারও দলীয়করণের চেষ্টা হলে ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, রেগুলেটরি কমিশন, বিআইডব্লিউটিসি ও বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেও দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সিটি করপোরেশনগুলোতে পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক বানিয়ে মেধার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সতর্ক আছি। মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই এর মোকাবিলা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিনব্যাপী নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।
নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং প্রধান আলোচক ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ১১০০ নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে একাডেমিক দিকনির্দেশনা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শের পাশাপাশি কোরআন, দিকনির্দেশনামূলক উপকরণ ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়।



