logo
Advertisement

অপ্রতিমের হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

অপ্রতিমের হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে কুবিতে বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে কুবি শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটে আলটিমেটাম ঘোষণা করে এ বিক্ষোভ শুরু করে কুবি শিক্ষার্থীরা।

আলটিমেটাম ঘোষণার পর বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের দক্ষিণমোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিক্ষোভ ত্যাগ করে আন্দোলনকারীরা।

একই দিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহত অপ্রতিম বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আবেদন জানান মা ড. নাহিদা বেগম।

এ ঘটনায় তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। তুহিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা শাহআলম মেম্বারের ভাতিজা। তার বাবার নাম নুরুল আলম। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মহিবুল আলম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। তবে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি এখনও তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটিও উদ্ধার হয়নি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম জানান, ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে আর জীবিত পেলাম না।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, আমাদের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে আছে একজন ব্যক্তি, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমি এখান থেকে যাওয়ার পরে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব, তদন্ত করব এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে না ধরা পর্যন্ত আমরা ননস্টপ এটা নিয়ে কাজ করব।

এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ থেকে তারা জড়িতদের গ্রেপ্তারে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।