logo

নিরাপদ ক্যাম্পাস চায় গবি শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ ক্যাম্পাস চায় গবি শিক্ষার্থীরা
ছবি : সংগৃহীত

সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি নারী। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো জাতির টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় একজন নারী ঘরের বাইরে কতটা নিরাপদ—সে প্রশ্ন বারবার সামনে আসে। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীরা কতটা নিরাপদ, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নির্মাণে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর মতামত তুলে ধরেছেন জান্নাতুল লামিশা।

‘৩২ একর হোক স্বপ্ন বোনার নিরাপদ স্থান’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ শিক্ষার্থীরা, যার একটি বড় অংশ নারী। উচ্চশিক্ষার এই আঙিনায় একজন নারী শিক্ষার্থী চান নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ। তবে বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ কতটা নারীবান্ধব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

প্রায়ই টিজিং, বুলিং কিংবা বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হন শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা সামাজিক সম্মানহানি কিংবা প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। তাই শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের পাশাপাশি নারীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

আফরা রুমালি সুপ্তি, আইন বিভাগ

‘শিক্ষার জায়গা হতে হবে নিরাপদ’

ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুস্থ পরিবেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস এমন একটি জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভয় বা অস্বস্তি ছাড়াই স্বাধীনভাবে পড়াশোনা, চলাফেরা ও মত প্রকাশ করতে পারে।

নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, সচেতন নিরাপত্তাকর্মী এবং ইভটিজিং, হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর সহজ ও গোপন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ ও সচেতনতা তৈরিও জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সন্ধ্যার পর নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ছোট ছোট নিরাপত্তা–সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সময়মতো সমাধান করা গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

মেঘলা আক্তার, রসায়ন বিভাগ

‘নিরাপদ ক্যাম্পাস নারীর অধিকার’

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব শিক্ষাঙ্গনেও পড়ছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও পর্যাপ্ত সিসিটিভি ও নিয়মিত নজরদারির অভাব অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ে।

অন্যদিকে ক্যাম্পাসসংলগ্ন নলাম ও বাইশমাইল এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। পর্যাপ্ত আলোর অভাব, নির্জন পরিবেশ এবং বখাটেদের উৎপাত নারী শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে ক্যাম্পাসের বাইরের পরিবেশ নিয়ে তাদের মধ্যে অস্বস্তি ও আতঙ্ক কাজ করে।

সমাজের সামগ্রিক বাস্তবতায় নারীদের মনে যে অদৃশ্য ভীতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব শিক্ষাঙ্গনেও পড়েছে। তাই এমন একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে নারী শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন। এ জন্য ক্যাম্পাসজুড়ে পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপন, ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

ফারজানা আক্তার, আইন বিভাগ

‘ভয়মুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই’

একজন শিক্ষার্থীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও নিরাপত্তার জায়গা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা সব সময় পূরণ হয় না। অনেক শিক্ষার্থীকে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে ক্যাম্পাসে র‍্যাগিং ও ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুধু ক্ষোভের প্রকাশ ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এনেছে। কয়েক দিন আগেও বহিরাগতদের হামলার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকাকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা কঠিন। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিরাপদ মনে না হওয়া সত্যিই হতাশাজনক। শিক্ষার্থীরা এমন একটি পরিবেশ চান, যেখানে ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাসে হাঁটা যাবে। সে জন্য প্রয়োজন প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং তার বাস্তবায়ন। তবেই গড়ে উঠবে আধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন।

আফসানা মিমি সাদিয়া, আইন বিভাগ

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।