logo
Advertisement

প্রতি বিভাগে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল করার চিন্তা করছি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট নিউজ,বাকৃবি
প্রতি বিভাগে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল করার চিন্তা করছি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
বাকৃবিতে বকত্ব্য দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে ভেটেরিনারিয়ানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Advertisement

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর)।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় ভেটেরিনারিয়ানদের মানুষ গুরুত্ব না দিলেও এখন এ খাতের পরিধি বেড়েছে। এই সেক্টরে যত বেশি গবেষণা হবে, ততই উন্নত হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পশুটি রোগমুক্ত ও খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ এখন খাদ্যনিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সেক্টরকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি প্রতিনিয়ত সারা দেশের খোঁজ রাখেন। এই সেক্টরকে এগিয়ে নিতে যা যা করণীয়, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল করার চিন্তা করছি।

ভেটেরিনারিয়ানদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমি ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে আপনাদের চাকরির সুব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ফিশারিজ সেক্টরেও প্রায় ৫০০টি পদের অনুমোদন হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ ছাড়া আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম, সচিব অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ট্রান্সলেটিং ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনটু সাসটেইনেবল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ’। তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের মূল দুই দিনে (৮ ও ৯ আগস্ট) মোট ৩১৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের প্রায় ৬৫০ জন গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভেটেরিনারিয়ান এতে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রবিন এল্ডার্স মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে তা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জীবাণু ব্যবহার করে দেশেই প্রাণিসম্পদের ভ্যাকসিন তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উপাচার্য আরও বলেন, গত ৬৫ বছরে দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞানের একটি ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে কাজ করছে। কৃষি, ভেটেরিনারি ও মৎস্য খাতের জাতীয় নীতি প্রণয়নে বাকৃবির বিশেষজ্ঞদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্ঞানকেন্দ্রের গবেষকদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা উচিত নয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ময়নুদ্দিনকে ‘বার্ষিক লেকচার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়।