মিরপুরে দুই দফায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের চেষ্টা ভেস্তে দেয় পুলিশ

রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকরা দুই দফায় সড়কে নামার চেষ্টা করেছে। তবে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। তিনি দিন ধরে চলমাম এই আন্দোলন থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজ সোমবার শ্রমিকেরা দুই দফায় সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেয়।
এর আগে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে এমন কোনো দুষ্কৃতকারী যুক্ত থাকতে পারে, যারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়। যারা আইন অমান্য করছে বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে অপরাধীর কোনো বিশেষ পরিচয় নেই। যারা আইন অমান্য করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বা সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল থেকে মিরপুর-১৪ ও মিরপুর-২ এলাকায় দুই দফায় শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মিরপুর-১৪ এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর-২ এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ এলাকায় জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপনগর এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে শ্রমিকেরা মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে আসছিলেন। তারা সড়কে নামার চেষ্টা করলে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যান প্রস্তুত রাখা হয়।
তবে মিরপুর-১০ নম্বর ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের দিকে সড়কে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা যায়নি। পথচারী ও সাধারণ মানুষও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেন।

