logo
Advertisement

অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫
সালাম, সুব্রত, সোহাগ, নাফি ও মেহেদী (বাঁ থেকে)। ছবি: র‌্যাব সূত্রে পাওয়া

মোবাইলের লোকেশন, কল ডিটেইলসের মতো নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ‘এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট’ বা অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে র‌্যাব। আর অনলাইনে বিক্রি করা তথ্যগুলো সরকারি সার্ভারের।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আব্দুস সালাম সরকার, সুব্রত চন্দ্র পাল, ইসমাইল হোসেন সোহাগ, এস এম নাফি ও মেহেদী হাসান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, র‍্যাব অনলাইনে তথ্য বিক্রিতে জড়িতদের তালিকা করছেন। তবে এই চক্রটি কাদের মাধ্যমে সরকারি সার্ভারের তথ্য পেতো সেটি ‘তদন্তের স্বার্থে’ এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছেনা র‌্যাব।

নয়মুল হাসান বলেন, সম্প্রতি এমন ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে কিনতে পাওয়ার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরমধ্যে নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আবদুস সালাম সরকার নামে একজনকে, গাজীপুর থেকে সুব্রত চন্দ্র পাল, নোয়াখালী থেকে ইসমাইল হোসেন সোহাগ, গোপালগঞ্জ থেকে এস এম নাফি ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মেহেদী হাসান। ক্রমান্বয়ে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। তারা খুব বেশিদিন তারা এই ব্যবসা করতে পারবে না।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আবদুস সালাম সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির জন্য গত এপ্রিলে ‘ই সেবা টুয়েন্টিফোর ডপ টপ’ নামে একটি ‘এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট’ তৈরি করেছিল। যেখানে অর্ডার দিলে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সকল প্রকার তথ্য গ্রাহককে সরবরাহ করতেন তিনি।

তিনি সহযোগীদের যোগসাজশে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের গ্রুপে মোবাইল সিমের লাস্ট কল লোকেশন, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই সার্চ তথ্য, সিডিআর, সিমের মালিকানা তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য ও লেনদেন বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যসহ নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য বিক্রি করে আসছিলেন।

র‌্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, সালাম ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার সুব্রত, ইসমাইল, নাফি এবং মেহেদী ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করে আসছিলেন। তারা অর্থ লেনদেনের জন্য বিভিন্ন নামে-বেনামে সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছিলেন বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা গ্রাহকদেরকে টাকার বিনিময়ে সঠিক তথ্যই সরবরাহ করছিল, যেহেতু সরকারি সার্ভার ব্যবহার করে তথ্যগুলো সংগ্রহ করত তারা।

তবে অভিযান চলমান থাকায় এবং তদন্তের স্বার্থে কারা অর্থের বিনিময়ে সেসব সার্ভারের তথ্য ফাঁসে জড়িত সেটি তিনি এখনই প্রকাশ করতে চাননি।

এই তথ্যের গ্রাহক কারা সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও র‍্যাব কর্মকর্তার নয়মুল হাসান বলেন, যখনই কোনো একটা ঘটনা ঘটে, গাড়ি হারালো বা মোবাইল চুরি হলো। তখন লাস্ট লোকেশনের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, আমাদের একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, মামলা ছাড়া সিডিআর আমরা নিতে পারি না। যে তথ্যগুলো আমরা পাই, সেগুলো একেবারেই সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ জনগণ যেগুলি পাচ্ছে, কেউ না কেউ এটা নিয়ে কাজ করছে। কারা জড়িত, এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে।

তবে এদের মধ্যে এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারও যোগসাজশ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।