রাতের আঁধারে সংঘের নামে সরকারি জমি দখল, টিনের ঘর নির্মাণ

মাগুরার মহম্মদপুরে রাতের আঁধারে সংঘের নাম ব্যবহার করে সরকারি খাসজমি দখল করে টিনের ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ব্যাপারীপাড়া যুব সংঘের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলা সদরের সরকারি ডাকবাংলোর উত্তর পাশে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে ওই টিনের স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে ব্যাপারীপাড়া যুব সংঘের নাম ব্যবহার করে ব্যাপারীপাড়া গ্রামের করিম বিশ্বাস একটি তৈরি করা টিনের ঘর এনে ওই সরকারি জায়গায় বসিয়ে দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়রা জানান, ওই জায়গায় একসময় প্রেসক্লাব মহম্মদপুরের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রেসক্লাবের নামে একটি নামফলক স্থাপন করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালের জরিপ অনুযায়ী জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। এর মালিক জেলা প্রশাসক (ডিসি)। হাল রেকর্ড অনুযায়ী মহম্মদপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ১২৭৯ ও ১২৮০ দাগে জমিটি ‘ক্লাব’ নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় প্রেসক্লাব মহম্মদপুরের সভাপতি আজিজুর রহমান টুটুল ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. মেহেদী হাসান পলাশের সঙ্গে। তারা জানান, জায়গাটি প্রেসক্লাব মহম্মদপুরের। সেখানে প্রেসক্লাব মহম্মদপুরের নামফলকও রয়েছে। তারা বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপনাটি দ্রুত অপসারণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তানজির রহমান সোহাগ বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি, ব্যাপাড়ীপাড়া সংঘের নামে সরকারি জমিটি দখল করা হয়েছে। এভাবে সরকারি জায়গা দখল করে রাখায় সরকারি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে করিম বিশ্বাস বলেন, এটা আমাদের সংঘের জায়গা। আমরা আমাদের সংঘের জায়গাতেই ঘর তুলেছি।
মহম্মদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদমান আকিব এশিয়া পোস্টকে বলেন, রাতে যে জায়গায় ঘর তোলা হয়েছে, সেটি সরকারি জায়গা। যারা ঘর তুলেছেন, তাদের আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্থাপনাটি সরিয়ে নেবেন। অন্যথায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে স্থাপনাটি অপসারণ করা হবে।


