logo

বিমানবন্দরে বেড়েছে চোর-ছিনতাইকারীর উৎপাত

বিমানবন্দরে বেড়েছে চোর-ছিনতাইকারীর উৎপাত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি : এশিয়া পোস্ট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যাত্রী ও সহযাত্রীর ভিড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রবাসীরা। একই সঙ্গে বেড়েছে চোর ও ছিনতাইকারীদের উৎপাতও।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দরের গোলচত্বর থেকে আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল পর্যন্ত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ যানজট। বহির্গমন অংশে তুলনামূলক চাপ কম থাকলেও আগমন টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সহযাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদেরও ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

এ অবস্থায় যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ ও এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের। অন্যদিকে চোর ও ছিনতাইকারীর আতঙ্কে রয়েছেন প্রবাসী ও তাদের স্বজনেরা।

দুবাই থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য বিমানবন্দরে চোর ছিনতাইকারী প্রবেশের কোনো সুযোগই নেই। অথচ আমাদের দেশের বিমানবন্দরে চোর, ছিনতাইকারীতে ভরপুর। সেই সাথে ভিক্ষুক ও হকারদেরও কোন কমতি নেই। এদের কারণে সব সময় প্রবাসীদের আতঙ্কে থাকতে হয়। না জানি, কখন কার কি জানি ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

একজন প্রবাসীর সহযাত্রী মাহফুজুর রহমান খান নয়ন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি উন্নত হত, তাহলে এত যানজট লেগে থাকতো না। আমরা সচেতন না। এলোমেলো ভাবে যে যার মত রয়েছি।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে আরও অনেক বেশি ডেভেলপ করা দরকার। সেই সঙ্গে প্রবাসীরা ও তাদের স্বজনরা সুন্দরমতো বসে থাকতে পারে, অপেক্ষা করতে পারে। যদি এমন পরিস্থিতি হয়- তাহলে দিন কি রাত কি, একই।

সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে নয়ন বলেন, সমস্যার সমাধান সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবেে।

পর্তুগালগামী প্রবাসী যাত্রী মো. সোহান বলেন, অতিরিক্ত মানুষের কারণে সিরিয়াল মেইনটেইন হচ্ছে না। এক একটা লাইন একেক দিকে গেছে। যার কারণে খুবই প্রবলেম হচ্ছে।

বিমানবন্দরে নিয়ম কানুনের পরিবর্তনের দাবি করে সোহান বলেন, সবাইকে নিয়মের মধ্যে আনা দরকার। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যাও বাড়ানো দরকার।

কাতারপ্রবাসী মো. জালাল উদ্দিন বলেন, একজন যাত্রীর সঙ্গে ১০-১২ জন সহযাত্রী আসা বাড়াবাড়ি। অতিরিক্ত সহযাত্রীর কারণেই ভিড় ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।

বিমানবন্দর থানার পুলিশ সদস্যরা জানান, চোর ও ছিনতাইকারীদের নিয়মিত আটক করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, আবার কাউকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাও দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকেই কারামুক্ত হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

বিমানবন্দর জোনের ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি মানুষ প্রবেশ করেছে। গাড়ি রাখার জায়গা নেই, এমনকি দুই মিনিট দাঁড়ানোর সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পুলিশ, এপিবিএন, বিমানবাহিনী ও আনসার সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. কামরুল হাসান বলেন, অতিরিক্ত সহযাত্রীর কারণে গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভিড়ের সুযোগে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় একজন যাত্রীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন সহযাত্রী আসেন। এতে যাত্রীদের খুঁজে পেতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। এই ভিড়ের মধ্যেই চোর, ছিনতাইকারী ও হকাররা মিশে থাকে।