logo

ফেক আইডিতে প্রেম, বাসায় নিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করত চক্রটি

ফেক আইডিতে প্রেম, বাসায় নিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করত চক্রটি
আটক হানিট্র্যাপ চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্য। ছবি: ডিএমপির সৌজন্যে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলা বাসা বা হোটেলে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল করত একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র। চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর তুরাগ থানার নলভোগ এলাকার মেইন রোডের ‘আলিজা সিরাজ টাওয়ার’-এর একটি বাসা থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চক্রের মূলহোতা জিত ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান, তার ভাগিনা প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ, ভাগিনার স্ত্রী সাবরিনা কবির প্রেমা ওরফে নেহা, সাজু ইয়াসমিন ওরফে মাহি এবং সিদ্ধার্থ।

চক্রটির অপরাধের কৌশল সম্পর্কে ডিবি জানায়, চক্রের নারী সদস্যরা প্রথমে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মধ্যবয়সি ও বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রলোভন দেখাত। পরে কৌশলে ভিকটিমদের নির্দিষ্ট বাসা বা হোটেলে ডেকে আনা হতো। ভিকটিম সেখানে পৌঁছামাত্র চক্রের পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তাকে জিম্মি করত এবং শারীরিক নির্যাতন চালাত। এরপর সঙ্গে থাকা নারী সদস্যদের সঙ্গে ভিকটিমকে উলঙ্গ অবস্থায় ছবি ও ভিডিও তুলতে বাধ্য করা হতো। এসব আপত্তিকর ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো এবং একবার টাকা দেওয়ার পরও এই ব্ল্যাকমেলিং বন্ধ হতো না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে চক্রটি ঘনঘন তাদের থাকার আস্তানা, ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম এবং সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করত। একাধিক ভিকটিমের অভিযোগের পর ডিবি ওয়ারী বিভাগ বিশেষ নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত চারজন ভিকটিম লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে লোকলজ্জা ও সামাজিক অবস্থানের কথা বিবেচনায় রেখে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।