মিরপুরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক পিটুনি

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছে। এ সময় এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে দলবেঁধে হামলা চালিয়েছেন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টা থেকে মিরপুর-১১ নম্বরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে মিরপুরের কালশী এলাকায় এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে দলবেঁধে হামলা চালিয়েছে শ্রমিকরা। হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লাঠিসোঁটা নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক হামলা চালায় পুলিশ সদস্যের ওপর। হামলার একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্য মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। ভিডিওটি ওই এলাকার একটি বাড়ির করিডোর থেকে ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সকাল থেকেই শক্ত অবস্থানে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, কালশীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। তার মাঝেই পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা করে।
পরে পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিক ও পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত হয়। বর্তমানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের কোনো অবস্থাতেই সড়ক অবরোধ ও বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি।
তিনি বলেন, তারা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে আমরা বাধা দেই। এতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত শনিবার মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অসন্তোষ রোববার প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এদিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হামলার কারণে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামে এবং গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়, কঠোর অবস্থানের কারণে আন্দোলনকারীরা চলে যেতে বাধ্য হয়। গতকাল সোমবারও দিনভর মিরপুরের পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত।

