logo

পরিকল্পিতভাবে পোশাকশ্রমিকদের উসকে দেওয়া হচ্ছে: শ্রমমন্ত্রী

পরিকল্পিতভাবে পোশাকশ্রমিকদের উসকে দেওয়া হচ্ছে: শ্রমমন্ত্রী
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং পুলিশ-শ্রমিক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে আজই 'মজুরি বোর্ড' গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই আন্দোলন উসকে দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক অবরোধ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ ওই পয়েন্টসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, আজকেও তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

মজুরি বোর্ড গঠন ও কড়া বার্তা শ্রমমন্ত্রীর

মিরপুরের পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের আন্দোলনের সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড। আজ মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ে বোর্ড বসবে এবং এটিকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে। আশা করি, এখন শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে কলকারখানায় যোগ দেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, গতকাল ১৫ থেকে ২০ জন গিয়ে ঢিল ছুড়লো, এরা শ্রমিক না। শ্রমিক নেতারা আমাদের সঙ্গে বসে কাজ করার পর আহ্বান জানিয়েছিলেন যে রোববার সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করবে, আপনারা কারখানায় থাকেন। অথচ আজ কয়েকটি কারখানায় অহেতুক ছুটি ঘোষণা করে অপপ্রচার চালানো হলো যে মজুরি বোর্ড ঘোষণা হয়নি। আমার মনে হয় এটি খুবই পরিষ্কার—পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন এই কাজগুলো করছে, যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের ইন্ধন

আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই! এটা তো পরিষ্কার। একটি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদককে দেখা গেছে শ্রমিক সেজে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির কোনো চেষ্টা চলছে কি না জানতে চাইলে আরিফুল হক বলেন, আজকের ঘটনা যদি বিশ্লেষণ করেন, আপনারাই ভালো বুঝতে পারবেন। তবে জনগণ ও শ্রমিকরা সজাগ থাকলে কোনো কুচক্রী মহল তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে না।

মজুরি বোর্ড গঠনের এই সিদ্ধান্তের পর শিল্পাঞ্চলে দ্রুতই স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শ্রমমন্ত্রী।