logo

শ্যামলীতে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

শ্যামলীতে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: ডিএমপি

রাজধানীর শ্যামলী ও আদাবর এলাকায় পথচারীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তারা হলো- জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।

বুধবার (৩ জুন) ডিএমপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টার দিকে সাদমান সাকিব (২৭) নামের এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আদাবর থানাধীন শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছান। এ সময় সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তার পথরোধ করে ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাটার শোরুমসংলগ্ন একটি সরু গলিতে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে আটকে রাখে।

অপহরণকারীরা প্রথমে ভুক্তভোগীর কাছে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে চক্রের সদস্যরা তাকে মারধর করে এবং ছুরি দিয়ে গুরুতর আঘাত করার হুমকি দেয়।

এ সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি টহলরত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চক্রের সদস্য জাহিদ হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পরে জাহিদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে চক্রের বাকি আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে শ্যামলী মোড়, শ্যামলী রিং রোড, শ্যামলী হাউজিং ও আশপাশের এলাকায় পথচারীদের টার্গেট করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। বিশেষ করে একা পথচারী ও বাইরে থেকে আগত ব্যক্তিদের কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায় করাই ছিল তাদের মূল পদ্ধতি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো সদস্য রয়েছে কি না এবং তাদের অপরাধ কার্যক্রমের বিস্তৃতি কতটুকু, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে রাজধানীবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক আচরণ করলে বা অপহরণ, ছিনতাই কিংবা মুক্তিপণ সংক্রান্ত তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।