Advertisement

বিএনপি কর্মী ইব্রাহীম পলাশ হত্যায় গ্রেপ্তার ৪

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
বিএনপি কর্মী ইব্রাহীম পলাশ হত্যায় গ্রেপ্তার ৪
গ্রেপ্তার ৪ আসামি। ছবি: ডিএমপি

রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মী ইব্রাহীম পলাশকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে সবুজবাগ থানা পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তার ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তদন্তের সময় অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীর বিচ্ছিন্ন একটি হাত এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার চারজনই পৃথক সময়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ডিএমপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২১ জুলাই রাত সোয়া আটটার দিকে সবুজবাগ থানার রাজারবাগ বাগপাড়া পানির পাম্প সংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা হোসেন রয়েলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বিএনপি কর্মী ইব্রাহীম পলাশের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রকাশ্যেই তার দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে নির্মমভাবে হত্যা করে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে সবুজবাগ থানা পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২২ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত নাঈমকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীর বিচ্ছিন্ন একটি হাত এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২৩ জুলাই নাঈম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এরপর তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবে ২৭ জুলাই ময়মনসিংহ থেকে পলাতক আসামি আলীকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৮ জুলাই সেও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা হোসেন রয়েল (৩৭) এবং তার সহযোগী সবুজ (৩৮) গত ২৬ জুলাই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মোস্তফা হোসেন রয়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আরও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মোস্তফা হোসেন রয়েল গত ৩১ জুলাই এবং সবুজ ৩ আগস্ট পৃথকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সবুজবাগ থানা পুলিশ।