মোহাম্মদপুরে অস্ত্র-গুলিসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একনলা বন্দুক, ১১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৭টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন, জহিরুল ইসলাম ওরফে পিপুল (২১), সুলতান, সোহেল ওরফে চাঁন সোহেল (২২), ইমন এবং বাক্কি ওরফে পিপুলা বাক্কি (২২)।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক জানান, শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শক্তিশুভা ইউনিয়ন ও খোলামোড়া এলাকায় চিহ্নিত অপরাধীরা অপরাধমূলক কাজ করতে অবস্থান করছে। পরে র্যাবের একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে মো. জহিরকে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি ও সোহেলকে দুটি তলোয়ার ও দুটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় খোলামোড়া টাউন এলাকা থেকে বাক্কিকে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদপুরের আলোচিত ইমন হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে পিপুলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যে আরও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ইমন হত্যা মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে র্যাব-২ এজাহারনামীয় চার আসামি এবং পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, দ্রুত বিচার আইন, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রাজাবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং লিডার ইমন ওরফে এলানের ইমনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছিল।



