logo

কদমতলীতে দশম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, এলাকাবাসী ও পুলিশের সংঘর্ষ

কদমতলীতে দশম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, এলাকাবাসী ও পুলিশের সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহার সুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন পুলিশসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন।

কদমতলীর দনিয়া এলাকার ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই ছাত্রী ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে ব্রাইট স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তারা এ সময় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে ঘিরে রাখেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যায়। ফলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি খারাপ দেখে তারা ফিরে যায়।

বিকেল ৩টার দিকে উত্তেজিত অভিভাবক ও এলাকাবাসী ইট পাটকেল মেরে ভাঙচুর শুরু করে। এ ছাড়াও তারা এই দশতলা ভবনের নিচ তলার ভিতরের কিছু গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

এদিকে বিকেল ৪টার দিকে থানার পুলিশ এসে চেয়ারম্যান লিটনকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাকে গণপিটুনি দেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে এলাকাবাসী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে দুইজন পুলিশসহ কয়েকজন এলাকার বাসিন্দারাও আহত হয়েছেন। অপরদিকে কলেজটির চেয়ারম্যান লিটনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

‎এদিকে লিটনকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় আধাঘণ্টা পর কদমতলী থানার পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে অবস্থান নেয়। পরে ভবনটির সামনে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেন। বিকাল পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানসিক চাপ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সে।

‎

‎পরিবার ও উত্তেজিত জনতার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির আচরণ শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ও অসম্মানজনক ছিল। সামান্য বিষয়েও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডেকে অপমান করা হতো এবং প্রায়ই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।

কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের কিছু শিক্ষকের আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত মানসিক চাপে থাকত বলেও দাবি তাদের।

‎এ ব্যাপারে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ চেয়ারম্যান লায়ন মাসুদ হাসান লিটন জানান, শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার সুকন্যা বুধবার (২০ মে) রাতে আত্মহত্যা করেন। তার মা তাকে কটু কথা বলায় তিনি এই পথ বেছে নেন। তবে তার পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় গতকালই (বুধবার) তার মরদেহ নরসিংদীতে নিয়ে যাওয়া হয়।

‎এ ব্যাপারে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, এখন পরিস্থিতি শান্ত। আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ ব্যাপারে স্কুলের চেয়ারম্যান ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার কারণে দুটি মামলা করা হবে।

‎এদিকে সাবিকুন নাহারের মৃত্যুর পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।