মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালকের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ এনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আউটসোর্সিং স্টাফ ও কর্মচারী নেতা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, স্টাফ যত বড় অপরাধই করুক, ডিরেক্টর স্যার তার গায়ে হাত তুলতে পারেন না। সমস্যা হলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতেন। শোকজ, সাসপেন্ড বা ট্রান্সফার করতে পারতেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, কথায় কথায় চাকরি চলে যায়, কথায় কথায় মারধর, হ্যারাসমেন্ট এবং বেতন আটকে রাখা হয়। আজকে সরকারি স্টাফ মরিয়ম খালার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং তার আইডি কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়েছে। মহিলা মানুষের গায়ে হাত তোলার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং এই ডিরেক্টর স্যারের পদত্যাগ চাই।
এ বিষয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তম জানান, প্রতিদিনের রুটিন পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শিশু ওয়ার্ড থেকে সাততলার র্যাম্প দিয়ে নামার সময় এক নবজাতকের বাবার সঙ্গে তার কথা হয়। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও সিজারিয়ান অপারেশনের পর বাচ্চা কোলে তুলে দেওয়ার জন্য কর্মচারীরা ১০০০ টাকা দাবি করেন। ৫০০ টাকা দেওয়ায় কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নবজাতককে বিছানায় ছুড়ে ফেলে এবং দুর্ব্যবহার করেন।
তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালক তাৎক্ষণিক গাইনি ওয়ার্ডে যান। সেখানে উপস্থিত আরও ১০-১২ জন রোগী একই ধরনের অভিযোগ করলে, তাদের সহায়তায় এক অভিযুক্ত কর্মচারীকে শনাক্ত করা হয়। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ধমক খেয়ে ওই কর্মচারী তার দোষ স্বীকার করেন। শাস্তিস্বরূপ তার আইডি কার্ড জব্দ করে ওয়ার্ড মাস্টারের কাছে জমা দেওয়া হয় এবং জড়িতদের অন্য ওয়ার্ডে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিচালক আরও জানান, অভিযুক্ত আয়া আগে থেকেই অ্যাজমায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ধমক খেয়ে ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি অসুস্থতার ভান করে ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি হন এবং তাকে মারধর করা হয়েছে এমন গুজব রটিয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তারা হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করার চেষ্টা করলে পরিচালক তা আটকে দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশের ওসি ঘটনাস্থলে আসেন।
