ডিসেম্বর থেকে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকারীদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে আগামী ১২ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। একই সঙ্গে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকারের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শাহবাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ভারতে পলাতক গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও দলটির নেতাকর্মী এবং শহীদ হাদি হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা না গেলে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে থেকে যাবে। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিতে চাই। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে বিষয়গুলোর ফায়সালা করতে হবে।’
এর আগে, সকালে আয়োজিত বিপ্লব র্যালিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছরের লড়াই, সংগ্রাম ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে দেশের মাটি ও মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করার যে পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই পথচলার স্মরণে এবার বর্ণাঢ্য এই আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ হাদির অনুপস্থিতি ইনকিলাব এবং দেশবাসীর জন্য অপূরণীয় শূন্যতা। তার হত্যার বিচার এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে রাজপথেই থাকব, ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে ৪৭, ৭১ ও ২৪-এর চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশপন্থি কালচার বিনির্মাণের প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাদ ফজর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন মুখপাত্র ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু করে সংগঠনটি। এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় ‘রাহে ইনকিলাব’ শিরোনামে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী র্যালি।
দুপুরে ‘আজাদীর মোলাকাত: শহীদ পরিবারের অভিমত’ এবং বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিপ্রায়’ পর্ব। এসব আয়োজনে অংশ নেন শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোওয়ারী, সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, ছাত্রশিবির সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আ ন ম আয়াস। এ ছাড়া আয়োজনের মধ্যে রয়েছে কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অভিমত, ‘আষাঢ়-শ্রাবণ জুলাই’ প্রদর্শনী, মঞ্চ নাটক ‘লাল জুলাই’, কনসার্ট এবং ‘ইশক-এ ইনকিলাব’র আসর।



