logo
Advertisement

চাপা আতঙ্ক নিয়েই চলছে পদ্মা হাসপাতালের কার্যক্রম

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
চাপা আতঙ্ক নিয়েই চলছে পদ্মা হাসপাতালের কার্যক্রম
পদ্মা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং স্বজনরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ৯ মাস বয়সি শিশু আয়ান আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও কর্মচারীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক নিয়েই চলছে সেবা প্রদান কার্যক্রম। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় সবার মধ্যেই এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। হাসপাতালটির ৭ম তলায় অবস্থিত এনআইসিউ বিভাগে গতকাল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

তবে আজ বিকেলে সেখানে গিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা যায়। দেখা যায়, এর মধ্যেই ভাঙচুর করা সব আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনরা বাইরে অপেক্ষা করছেন। কেউ চেয়ারে বসে আছেন আবার কেউ মেঝেতে পাটি পেতে শুয়ে ঘুমাচ্ছেন। আবার কেউ রোগী দেখার জন্যে এনআইসিইউ কক্ষে ঢুকতে নির্ধারিত পোশাক গায়ে দিচ্ছেন।

হাসপাতালের ৫ম তলায় আইসিইউ বিভাগের সামনেও একই দৃশ্য দেখা যায়। নিচতলায় রিসিপশন, ফার্মেসিসহ সব বিভাগেও স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন রোগীও ভর্তি হচ্ছেন আগের মতোই। তবে সবার মধ্যেই চাপা আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে।

এনআইসিইউর সামনে বসে থাকা রাশেদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছি। কঠিন এই মুহূর্তে যদি হাসপাতালের মতো জায়গায় মারামারি দেখি তাহলে তো আতঙ্কে থাকাই স্বাভাবিক।

হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, স্বাভাবিকভাবেই তারাও একটু অস্বস্তিকর অবস্থায় আছেন। ডাক্তার এবং রোগীদেরও একই অবস্থার কথা জানান তারা।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। হাসপাতালের ম্যানেজারসহ চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলার পর তারা ব্রিফিং করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম এবং ধানমণ্ডি এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান বলেন, শিশুটির শারীরিক জটিলতা ছিল, বেশ কয়েকটি রোগে ভুগছিল। খাদ্যনালিতে খাবার আটকে যাওয়া এবং সেপটিসেমিয়ায় ভুগছিল শেষের সময়। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা হাসপাতালের কোনো অবহেলা খুঁজে পাইনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লাইভটি যিনি করেছেন, তিনি শিশুটির নিকটাত্মীয় নন। তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ভাঙচুর করে ফৌজদারি অপরাধ করেছে তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে এ বিষয়ে আইনগত সহযোগিতা নিতে পারে।

এ সময় হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক বলেন, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয়। একপর্যায়ে তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।

পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম অনিকও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।