logo

অনলাইনে বন্ধুত্ব, বাসায় ডেকে হত্যা করা হয় রাকিবকে

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
অনলাইনে বন্ধুত্ব, বাসায় ডেকে হত্যা করা হয় রাকিবকে
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগে ব্রিফ করছেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম। ছবি: ডিএমপির সৌজন্যে

রাজধানীর কাফরুলে ১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া বিভাগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মো. মাহিদুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, ঢাকায় এডমিশন কোচিং করতে আসা রাকিব ইসলাম নিখোঁজ হয়ে গেলে পরবর্তীতে রাকিবের পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। এ ঘটনায় রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় নিখোঁজ, সাধারণ ডায়েরি এবং পরবর্তীতে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানায়, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নিয়ে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নেয়। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে দেয়। এতে রাকিবের মৃত্যু হয় বলে আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

পরবর্তীতে মরদেহটি কার্টুনে ভরে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশাযোগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায় মামুন। সেখান থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে নীলফামারীর ডিমলায় গিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির সামনে সুপারি বাগানে গর্ত করে মরদেহসহ কার্টনটি মাটিচাপা দেয়।

মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনে ভর্তি অবস্থায় রাকিবের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বড় ভাই জীবন মৃতদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।