ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস উদযাপন

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এবং বৃহত্তম গভীর-সমুদ্র সাবমেরিন ফ্যানও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকাও বাংলাদেশকে নিতে হবে।
শনিবার ও রোববার (৮ ও ৯ আগস্ট) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ফারহাত আনোয়ার বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও তরুণদের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একাডেমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্র্যাকের কার্যক্রমকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু কার্যক্রমে আরও বড় ভূমিকা রাখার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী গাছের প্রজাতি নির্ধারণে ইতোমধ্যে ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
কাঠের জ্বালানি ব্যবহারকারী ইটভাটা বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) পলিথিনের পরিবর্তে পচনশীল বিকল্প ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়নের বিষয়েও সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘থ্রিআর’ নীতি—রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেলের ওপর গুরুত্ব দেন। বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করতে সার্কুলার অর্থনীতির প্রসারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সিথ্রিইআরের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ৪০ থেকে ৫০টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এসব অঙ্গীকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইংয়ের প্রধান এ. কে. এম. সোহেল এবং সিথ্রিইআরের পরিচালক ড. গোলাম রব্বানী বক্তব্য দেন।
পাঁচটি কারিগরি অধিবেশনে জলবায়ু সহনশীলতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান ও তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে ‘শি ফর ক্লাইমেট ফেলোশিপ’ কর্মসূচির সেরা তিন অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করা হয়। আয়োজনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২৫ বছরপূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবেও এ আয়োজন করা হয়।
.png)


