Advertisement

সৌদিতে আগুনে নিহত: বাড়িতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শ্যামল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাজশাহী
সৌদিতে আগুনে নিহত: বাড়িতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শ্যামল
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্যামল উদ্দিন মাঝি। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি নিহত হয়েছেন। তিনি বাড়িতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছের স্বজনরা।

Advertisement

রোববার (১০ আগস্ট) রাতে ঘটে যাওয়া এ অগ্নিকাণ্ডে শ্যামলসহ ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

শ্যামলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে নেমে এসেছে মাতম। সোমবার সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্বামীকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শ্যামলের স্ত্রী রশিদা খাতুন।

শ্যামল উদ্দিন বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় আট বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু দেশে ফেরার আগে তিনি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন।

পরিবার জানায়, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আট বছর আগে ঋণ ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে শ্যামলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। প্রবাসজীবনে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করলেও দীর্ঘ সময় দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

শ্যামলের স্ত্রী রশিদা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘তুমার সঙ্গে হামার কালকেই কথা হলো। তুমি বাড়িত আসবে বললে, আর রাতে তুমার মরার খবর পানু।’

তিনি জানান, রোববার সকালে স্বামীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। শ্যামল তাকে জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

শ্যামলের স্ত্রীর বড় ভাই জহির উদ্দিন জানান, রোববার রাতে শ্যামলের এক সহকর্মী মুঠোফোনে মৃত্যুর খবর দেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্যামলসহ অন্য শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজ করছিলেন। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, দুই শ্রমিক সিগারেট খেতে বাইরে যাওয়ায় তারা আগুন থেকে প্রাণে বেঁচে যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার তিন মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে এখনও পড়াশোনা করছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্যামলের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্যামলের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

বিষয় :