logo
Advertisement

বগুড়ার মম ইনে কেবল কারে পর্যটকের ভয়াবহ একঘণ্টা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
বগুড়া, রাজশাহী
বগুড়ার মম ইনে কেবল কারে পর্যটকের ভয়াবহ একঘণ্টা
বগুড়ার মম ইনের কেবল কার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গন্তব্যে পৌঁছাতে বাকি ছিল আর মাত্র এক মিনিটের পথ। ঠিক তখনই মাঝ আকাশে হঠাৎ থমকে যায় বগুড়ার ‘মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর কেবল কার। ভেতরে তখন দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজন যাত্রী। কিছুক্ষণ পরই নামল অঝোরে বৃষ্টি, সেই সঙ্গে একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত।

এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা মাঝ আকাশে আটকে থেকে আতঙ্কের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ফরিদপুরের সরকারি কাজী মাহবুবউল্লাহ কলেজের প্রভাষক ফারদিন শাহরিয়ার শুভ ও তার পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কেবল কারের বিকল্প ও জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই শিক্ষক।

তবে মম ইন কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো বিদ্যুৎ বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নয়, বরং বাতাসের গতিবেগ নির্ধারিত নিরাপদ সীমা অতিক্রম করায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই কেবল কারের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফারদিন শাহরিয়ার শুভ জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় স্ত্রী, বড় বোন, দুলাভাই ও তাদের দুই ছেলেকে নিয়ে মম ইনে ঘুরতে যান তিনি। বড় বোন ও দুলাভাইয়ের পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় তিনি স্ত্রী ও দুই ভাগনেকে নিয়ে কেবল কারে ওঠেন। ৪০ মিনিটের মতো রাইডটি অত্যন্ত আনন্দদায়কভাবেই চলছিল এবং তারা গন্তব্যের একদম কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটি ঝাঁকুনি দিয়ে কেবল কারটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে বড় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প জেনারেটর ব্যবস্থা থাকবে ভেবে তিনি খুব একটা উদ্‌বিগ্ন হননি। কিন্তু কিছু সময় পর মাইকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কেবল কার বন্ধ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ এলে এটি আবার চালু হবে।

এরপর সময় গড়াতে থাকে— ১০, ২০ ও ৩০ মিনিট। একপর্যায়ে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি ও বজ্রপাত। চারপাশের অন্ধকারে উঁচুতে ঝুলতে থাকা কেবল কারের ভেতরে বৃষ্টির পানিতে ভিজতে থাকেন যাত্রীরা। শুভ বলেন, তখন ঘটনাটি আর কোনো বিনোদন ছিল না। নিচে নামার জন্য আমরা শুধু সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছিলাম।

দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কেবল কারটি চালু হয় এবং তারা নিরাপদে নিচে নেমে আসেন। শুভ প্রশ্ন তোলেন, আকাশে ঝুলন্ত পর্যটকদের নিরাপদে দ্রুত নামিয়ে আনার জন্য জেনারেটর, ইমার্জেন্সি পাওয়ার কিংবা ম্যানুয়াল রিকভারি সিস্টেম কেন থাকবে না? পাশাপাশি ভেতরে কোনো জরুরি যোগাযোগ নম্বরও তিনি দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে পর্যটকের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, কেবল কার বন্ধ হওয়ার মূল কারণ বিদ্যুৎ বা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়। নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে কেবল কারের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

মম ইনের অপারেশন ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম বলেন, মম ইন এর অপারেশন ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম বলেন, কেবল কার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ও কারিগরি নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। বিশেষ করে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি হলে নিরাপত্তার স্বার্থে কেবল কার পরিচালনা বন্ধ রাখা হয়।

সম্প্রতি যে পরিস্থিতিতে কেবল কার বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেটির কারণও বাতাসের গতিবেগ নিরাপদ সীমা অতিক্রম করা বলে জানান তিনি। তার দাবি, এটি কোনো বিদ্যুৎ বা যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত সমস্যা ছিল না, বরং নিরাপত্তা নীতিমালা মেনেই সতর্কতামূলকভাবে কেবল কার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বজ্রপাতের বিষয়েও রাকিবুল ইসলাম বলেন, কেবল কারের চেম্বারগুলো বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার উপযোগী নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অতিরিক্ত বাতাসের সময় শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেই কেবল কার চালু করা নিরাপদ নয়। তাই নির্ধারিত সীমার বাইরে বাতাসের গতিবেগ চলে গেলে অতিথিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার স্বার্থে কেবল কার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ বলেছে, অতিথিদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এদিকে প্রায় এক ঘণ্টা মাঝ আকাশে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা নিরাপদে শেষ হলেও ওই সময়ের আতঙ্ক এখনো কাটেনি বলে জানিয়েছেন পর্যটক ফারদিন শাহরিয়ার শুভ। তার দাবি, ৪০ মিনিটের আনন্দের রাইড শেষ হওয়ার মাত্র এক মিনিট আগে সেটি প্রায় এক ঘণ্টার ভয়ংকর অপেক্ষায় পরিণত হয়েছিল।